ইতিহাস কখনও ফিরেও আসে। আর সেটাই যেন সত্যি হল নিতাই রায় চৌধুরীর ক্ষেত্রে। তিন দশকের দীর্ঘ বিরতির পর ফের ফিরে এলেন তিনি। আশির দশকের জাতীয় পার্টির সরকারের মন্ত্রী থাকা এই প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফের মন্ত্রিত্ব পেলেন। শেষমেষ তিনি ফিরলেন বিএনপির শাসনকালে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তারেকের মন্ত্রীসভায় সনাতনী হিন্দু মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ভারতকে ম্যানেজ করতে বাংলাদেশ সরকারের কি এটা নয়া চাল!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হল বাংলাদেশে। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০৯ টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন। তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিয়েছেন নিমাই রায় চৌধুরীকে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় নিতাই রায় চৌধুরীকে। ৭৬ বছর বয়সে এসে তিনি গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। অনেকেই বলছেন, এই দায়িত্ব পাওয়া শুধুমাত্র নিছকই কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। বরং এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আস্থা ও রাজনৈতিক সমীকরণ। মাগুরা ২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোটে জয়ী হন তিনি। তাঁর সংসদীয় জীবনে এটা দ্বিতীয় অধ্যায়।
তবে কে এই নিতাই রায় চৌধুরী?
১৯৪৯ সালে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার হাটবারিয়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন নিতাই রায় চৌধুরী। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী। এবং চিন্তাশীল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষায় ও সাহিত্যে স্নাতক হন। এরপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। সাহিত্যচর্চা ও আইনের যুগল মেলবন্ধন নিতাই রায় চৌধুরী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে দিয়েছে আলাদা গভীরতা। জানা যায়, ছাত্র জীবনে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এছাড়াও বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় পার্টির টিকিটে ১৯৮৮ সালে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে প্রতিমন্ত্রী হন। তার ওপর দায়িত্ব ছিল যুব ও ক্রীড়া দফতরের। এরপর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নিতাই রায়চৌধুরী। এরশাদের দল জাতীয় পার্টির পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। তিন রাজনৈতিকভাবে জয় না পেলেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। এখন তিনি তারেক রহমানের আস্থাভাজন। অনেকেই বলছেন, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছিলেন। যে কারণেই তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হল।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন সংস্কৃতি মনস্ক ব্যক্তিত্ব। প্রয়াত ঝুমা রায়চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তাদের মধ্যে নিপুণ রায়চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। তাঁর একটি ছেলে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৯ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা। মোট সম্পদ ৪২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। অনেকেই বলছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কৃতি জগতে উন্নয়ন হবে। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে দেবে। তারেক রহমান বাংলাদেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে তুলে ধরা হবে। দেশের উন্নয়নই হবে শেষ কথা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা। এখন দেখার, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তারেক রহমানের হাতে ঠিক কতটা সুরক্ষিত থাকে!












Discussion about this post