বাংলাদেশে শেখ হাসিনা শাসন করেছে প্রায় ১৬ বছর। তার শাসন পদ্ধতি নিয়ে বহু বিতর্ক থাকলেও, তিনি গোটা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে যে উন্নত শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন, সেটা অস্বীকার করে না কেউ। এমনকি একসময় বাংলাদেশকে কোনও দেশ পাত্তাই দিত না। সেই জায়গাতে শেখ হাসিনার কৃতিত্ব অপরিসীম। অন্তত শেখ হাসিনার আমলে দেশকে অপমানিত হতে হয়নি। বাংলাদেশের যে কোনও রাষ্ট্রপ্রধান বিদেশ সফরে গেলে, সেখান থেকে অন্তত সম্মানটুকু বাঁচিয়ে নিয়ে আসতেন। কিন্তু মহম্মদ ইউনূসের আমলে সেটা নজির গড়লো। লন্ডন সফর ঘিরেই যত কাণ্ড। সেখানে থেকে যে অসম্মান এবং হতাশা নিয়ে আসছেন, সেটা বাংলাদেশের জনগণের কাছেও অপমানজনক। এমনকি ঐতিহাসিক ব্যর্থতা বলে অনেকে অভিহিত করছেন।
সোমবার লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। সেখানে তার একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি কিংস চলস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড 2025 দেওয়া হবে মহম্মদ ইউনূসকে। এমনকি ব্রিটেনের বিদেশ মন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু লন্ডনে পৌঁছেই মহম্মদ ইউনূস চরম অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে খবর। হোটেল থেকে আর বের হতে পারছেন না বলে খবর। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি থেকে সেটা স্পষ্ট নজরে আসছে। একদিকে ইউনূসের বিরুদ্ধে পোস্টার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অন্যদিকে হাসিনার পক্ষে পোস্টার নজরে আসছে। পাশাপাশি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর মুক্তির দাবিতে ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা যে হোটেলে রয়েছেন, সেখানে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। এছাড়াও লন্ডনের বিভিন্ন জায়গাতে প্রতিবাদ বিক্ষিপ্তকারে লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফরের আগেই মনে করা হচ্ছিল, তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন। তার কারণ বাংলাদেশের বাইরে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক ও নেতা রয়েছেন লন্ডনে। আর সেখানেই আওয়ামী লীগের প্রতিরোধের মুখেই পড়লেন তিনি। তারা এককাট্টা হয়ে এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে খবর। এটি একটি দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে। কারণ বিদেশের মাটিতে কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে কোনও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি সম্ভবত। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।এমনিতেই বাংলাদেশের অন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরোধী শক্তিগুলি মাথাচারা দিয়েছে। বিক্ষোভ, আন্দোলনে মুখরিত দেশের রাজপথ। এবার দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও বিক্ষোভের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস।
অর্থাৎ এতদিন বাংলাদেশের অন্দরে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল। বিক্ষোভ, আন্দোলনও দেখা গিয়েছে। কিন্তু এখন সেসব ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে। এরকম পরিস্থিতিতে আর কোনও রাষ্ট্রপ্রধান কে পড়তে হয়নি বলে মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। এমনকি তিনি ১১ তম সফরে গিয়ে আদেও কি আনতে পারেন দেশের জন্য, সেটা নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। কারণ বাকি দশটা শহর থেকে বাংলাদেশে হইচই ফেলে দেওয়ার মত কোন ঘটনাই ঘটাতে পারেননি প্রধান উপদেষ্টা। যদিও লন্ডন সফর খানিকটা তার ব্যক্তিগত সফর বলেই উল্লেখ করছেন অনেকে। সেখানে তিনি তার সম্মাননা নিতে গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এখন দেখার, এই রাজকীয় সফরের পর লন্ডন থেকে বাংলাদেশের জন্য কি নিয়ে আসতে পারেন মহম্মদ ইউনূস। তবে অনেকে বলছেন, যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তিনি পড়েছেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অসম্মান আর একরা হতাশা ছাড়া আর কিছুই তিনি নিয়ে আসতে পারবেন না।












Discussion about this post