বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের ঠিক একদিন আগেই সে দেশের তথ্য উপদেষ্টা তথা মুহাম্মদ ইউনূসের খুব কাছের ছাত্রনেতা মাহফুজ আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট নজর কেড়েছিল। যদিও ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সেই বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট তিনি ডিলিট করে দেন বলে জানা যায়। কী লিখেছিলেন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড? তিনি লেখেন, “১/১১ এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তবে জুলাই জয়ী হবে, জনগণের লড়াই পরাজিত হবে না”। প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের গণঅভ্যুতিক এক বছরের মাথায় এসে কেন এই ছাত্রনেতা তথা জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ আলাম সেই ১/১১ এর কথা তুলে ধরলেন?
মাহফুজ আলম, যিনি নাকি জুলাই সনদ তৈরি করেছিলেন সেই এক বছর আগেই। যদিও তাঁর লেখা সেই সনদ পরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি বাতিল করে দেন বলেই জানা যায়। সেই তিনি এক বছর পর এসে কেন শুনতে পেলেন ১/১১-এর পদধ্বনি? কিসের জন্য তাঁর এই উপলব্ধি এল? বিশেষ করে মঙ্গলবার ৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে বিশাল আয়োজন করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর সেই সরকারেরই অন্যতম উপদেষ্টা বা তথ্য উপদেষ্টা হলেন মাহফুজ আলম। এও জানা যায়, এদিন গোটা বাংলাদেশ থেকেই ছাত্র ও জনতাকে ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালাবে। এর জন্য প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে সেই অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু তার আগে মাহফুজ আলমের এই ফেসবুক পোস্ট ও খানিক পরে তা ডিলিট করে দেওয়া কিছুটা হলেও রহস্যের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
১/১১ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কি ঘটেছিল সেবার তা বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই জানেন।
আসলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মহাফুজ আলম কী সেরকমই কোনও ইঙ্গিত দিলেন? এই প্রশ্ন তুলছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা অবশ্য মাহফুজকে তাঁর পোস্ট ডিলিট করার জন্য কটাক্ষও করছেন।
মাহফুজের পরের দুটি লাইনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লিখেছিলেন, বাংলাদেশের জনগন নাকি পরাজিত হবেন না। আসলে মাহফুজ আলমরা এখনও জুলাই সনদ নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু একবছরেও তা প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা সেটোই অনিশ্চিত ছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এদিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রনয়ণ করা হল।
উল্লেখযোগ্য দিক হল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে এই ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ যে বৈষম্য ও কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন হল, সরকার পতনের এক বছরের মাথায় সেই কোটা ও বৈষম্য নতুন রূপে ফিরে এল বাংলাদেশে। মাহফুজ আলম কী শেষ মুহূর্তে তাঁর ফেসবুক পোস্টে কোনও হুমকি দিয়েছিলেন? এটাই এখন রহস্য।












Discussion about this post