প্রায় সাড়ে ১৫ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ছিল মানুষের মধ্যে। আর সেই কারণেই সরকার পতন ঘটেছে তাদের। কিন্তু এর পিছনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের বাইরে মেডিকুলাস ডিজাইন ছিল এই আন্দোলন। সেটা এখন ওপেন সিক্রেট। এদিকে সরকার পতনের বর্ষপূর্তি উদযাপন চলছে বাংলাদেশ জুড়ে। কিন্তু এর মধ্যেও সরকারের মধ্যে ভয় রয়েছে। নাহলে কেন উপদেষ্টা মন্ডলীতে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ফেসবুকে স্ট্যাটস দেবেন। তিনি বলেন ১/১১ এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। কেন তিনি এই মুহূর্তে পোস্টটি দিলেন? প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
সেনাবাহিনী তো বিভিন্ন সময় হুশিয়ারি দিয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতা হাতে নেয়নি। মানুষকে যে বোকা বানানো হচ্ছে সেটা থেকেই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভয় কাজ করছে। যে কোনও মুহূর্তে সেনাবাহিনী ১/১১ এর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এই সরকার এই এক বছরে দেশটিকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে, এখন সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিভাবে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলির একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলছেন, এক বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের বিরোধিতা করে প্রাণঘাতী সহিংসিতার মুখোমুখি হওয়া হাজার হাজার মানুষের আশা অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে। যার অধিকার সম্মানিত গণতন্ত্র গড়ে তুলতে শেখ হাসিনার অপশাসনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের আশা অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে। এমনকি এটি বিশেষ গোষ্ঠীর সহিংসতা। এমনকি শেখ হাসিনার জমানার থেকেও ভয়ংকর ভাবে বেড়েছে অরাজক পরিস্থিতি। তেমনটাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক দল বা কিংস পার্টি গঠন করা হয়েছে। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মোট ১২১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এসব রাজনৈতিক সহিংসতার ৯২ শতাংশের সঙ্গে বিএনপি, ২২ শতাংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ৫ শতাংশের সঙ্গে জামায়াত এবং ১ শতাংশের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি জড়িত ছিল বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমনকি তারা বলছে, নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা না করায় রাজনৈতিক অস্থিরতা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি তারা বলার চেস্টা করেছে, যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের চাপের আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে পরবর্তীকালে বিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে দমনের পরিসর তৈরি হয়ে গিয়েছে।
এদিকে মাহফুজ আলম ফেসবুক লিখেছেন, জুলাই আমাদের সবার
দলীয় বা আদর্শিক বিরোধের জেরে জুলাই গণ- অভ্যুত্থানে কারো অবদান অস্বীকার করা উচিত না।
এখানে শিবির ভূমিকা রেখেছে তাদের ‘জনশক্তি’ ও কো-অর্ডিনেশন দিয়ে। বিভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে শিবিরের কর্মীরা অভ্যুত্থানকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, ক্ষেত্র বিশেষ চালিয়ে নিয়ে গেসেন।
ছাত্রদল ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিস্ট বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ স্পটগুলোতে লড়াই করেছে, তৃণমূলে লীগকে প্রতিরোধ করেছে।
ছাত্রশক্তি কো-অর্ডিনেট করসে মাঠে-সামনে থেকে, সিভিল সোসাইটি আর কালচারাল সার্কেলে এবং আস্থা তৈরি করতে পেরেছে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মীরা সারাদেশে প্রতিরোধ গড়েছেন এবং আগের কোটা আন্দোলনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।
তিনি লেখেন, ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, ছাত্র ফেডারেশন ও অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলো মাঠ ও বয়ান ধরে রাখসে, বামপন্থী সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো জুলাইয়ের শেষ দিনগুলোতে মাঠে নেমে জনগণেএ মধ্যে সাহস সঞ্চার করেছে।
আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্ররা বিশেষ করে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন রাজপথে নেমে দীর্ঘসময় প্রতিরোধ ধরে রেখেছিলেন। যাত্রাবাড়ী যার উজ্জ্বল উদাহরণ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করে তিনি এত কথা কেন লিখতে গেলেন? তবে কি তারা ভয় পাচ্ছে? দেশ যেভাবে বিশৃঙ্খল জায়গায় পৌঁছেছে সেখানে দাঁড়িয়ে ফের পট পরিবর্তনের ভয় পাচ্ছেন তারা?












Discussion about this post