সংবাদ শিরোনামে তদারকি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমলারা এখন পরবর্তী সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে। আর তিনি অপেক্ষা করছেন পদত্যাগের মাহেন্দ্রক্ষণের। অনুষ্ঠানে মাপফুজ আলম বলেন, গত দুই মাস ধরে একটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে। জানি না কখন আমায় সরে যেতে হবে। কখন আমায় পদত্যাগ করতে হবে।
প্রশ্ন হল, মাহফুজ আলম কেন এই বক্তব্য রাখলেন।
রবিবার রাজধানীর সিরডাপের ‘গণমাধ্যমে স্বনিয়ন্ত্রণ, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা: রাজনৈতিক ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গী’ সংক্রান্ত এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন তদারকি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামি কাড়াকাড়ি করে প্রশাসনিক জায়গাগুলোত তাদের লোক নিয়োগ করেছিল। নিয়োগের আগে তারা সংস্কারের জন্য সরকারকে যতটা সময় লাগে তা দেওয়ার পক্ষে ছিল। তবে নিয়োগ শেষ হওয়ার পর ডিসেম্বর থেকে তারা সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা শুরু করে।
মাহফুজ বলেন, ‘বাংলাদেশে সবাই গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য কাজ করে। জাতীয় স্বার্থ দেখে না। সামগ্রিকভাবে কোন কাজটা, কীভাবে করলে একটা ভালো আইন পাওয়া যাবে, ভালো একটা নীতি পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কেউ আগ্রহী নয়।’ আমলাদের সম্পর্কে তাঁর মত, ‘আমলারা পরের সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে। সবাই পরের সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে। এটা হল ট্রাঞ্জিশনাল সরকারের দূর্বলতা।’ বর্তমান সরকার বড় ক্রাইসিস সময়ে আছে উল্লেখ করে তদারকি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এক মাস ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে ছাত্র উপদেষ্টারা নেমে যাবেন। ফলে, ছাত্র উপদেষ্টাদের দফতর কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে কাজের গতি স্লথ হচ্ছে। ’ তিনি এও বলেন, ‘স্বল্প সময়ে যতটুকু করা সম্ভব, ততটুকু করা গিয়েছে। তবে আমাদের বয়স কম। অভিজ্ঞতাও কম। জনগণ নিশ্চই আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। ’
কথা বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও। এই প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা ছিল সে অনুসারে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে দেশে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মিডিয়া ও সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ীক গোষ্ঠীর মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল, যে সহযোগিতা ছিল তা অটুট রয়েছে। ’ তবে তাঁর মতে, গণমাধ্যম এখনও ব্যবাসীয়দের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। সামরিক এবং অসামরিক আমলাতন্ত্রকে ফ্যাসিস্টমুক্ত না করে গণাধ্যমকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা সম্ভব নয়।
তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বিএনপি এবং জামায়াত দখলদারির রাজনীতি করছে। কিন্তু কেন? এই যে কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, লন্ডনে তাঁর বিশেষ মিশন রয়েছে, তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর একটি বোঝাপড়া হয়েছে, সেই মিশন কী ব্যর্থ হয়েছে ? সেটা ব্যর্থ হয়েছ বলেই কি মাহফুজ আলম সরকারের বিদায়ের আগেই তিনি সরকার থেকে সরে যেতে চাইছেন? সে কারণে বিএনপি সম্পর্কে কুৎসিত তথ্য ফাঁস করলেন? ফেসবুকে প্রথমে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। পরে দেখা যায় সেটি তিনি এডিট করেছেন। এ ক্ষেত্রেও কি তাকে তাঁর বক্তব্য এডিট করতে দেখা যাবে ? নাকি তিনি বলবে, বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
ভোটের আগে মাহফুজ আলমের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছে। কেন সরকার শরিক দলকে এভাবে কাঠগড়ায় তুললেন না নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Discussion about this post