বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর সোমবার দুপুরে ভেঙে পড়েছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক প্রশিক্ষণ বিমান। যার জেরে হতাহতের সংখ্যা বহু বলেই জানা যাচ্ছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কত, সেটাই নাকি জানাতে পারেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দাবি উঠছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা চেপে যাচ্ছে ইউনূস সরকার। যা নিয়ে ক্রমশ ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার দফায় দফায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে উত্তরার বিভিন্ন চত্বর। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে দফায় দফায় বিক্ষোভ করছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, সরকার নিহতের সংখ্যা চেপে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিক্ষোভ জোরদার হতে থাকে উত্তরা রাজউক মডেল কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদেরও সেখানে জড়ো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পড়ুয়াদের উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগানে মুখোরিত হতে থাকে উত্তরা। একদিকে সন্তানহারা বাবা-মা, পরিজনদের কান্না, অন্যদিকে শীক্ষার্থীদের স্লোগান। ক্রমেই পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এই আবহেই বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের অবরোধের মুখে পড়েন বাংলাদেশের দুই উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। সূত্রের খবর, জানা যায়, এদিন দিয়াবাড়ি মোড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আটকে দেয় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা। তারা উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবি জানাতে থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে ফের কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতর নিয়ে যায়। বাইরে তখনও শত শত পড়ুয়ার বিক্ষোভ চলতে থাকে।
বাংলাদেশের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পড়ুয়াদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৃত ও আহদের সংখ্যা যা বলছে, তার থেকে অনেক বেশি মৃত্যু হয়েছে। টিভি ক্যামেরার সামনেই কয়েকজন পড়ুয়া দাবি করেন, তাঁরা নিজেরাই প্রায় ৫০টির বেশি দেহ উদ্ধার করে বের করেছেন ধ্বংসস্তুপ থেকে। কেউ দাবি করেন, তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকরা হাসপাতালগুলিতে কাজ করছেন। তাঁরা বহু মৃতদেহ দেখেছেন। কিন্তু সরকারের দাবি মাত্র ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে লাস গুম করছেন।
বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদপত্র প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষাসচিবের পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এতে আহত হয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী পড়ুয়া। কমপক্ষে ৩৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। এদিন বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে লাঠিপেটা করে বলেও অভিযোগ। বড় বিষয় হল, বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল ইউনূসের সরকার। এর মধ্যেই এদিন বিক্ষোভে উত্তাল হল বাংলাদেশ। বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের নাম-পরিচয়, সংখ্যা লুকানোর অভিযোগে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আর তা সামাল দিতে চূরান্ত লাঠিপেটা করল পুলিশ ও সেনাবাহিনী। মূলত শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন তুলেছে, যে বিমানটি ভেঙে পড়েছে, তা চিনের তৈরি। চিনের কাছ থেকে কেন পুরনো বিমান কেনা হল? এত বড় দুর্ঘটনার দায় কার? তাঁদের দাবি, ইউনূস সরকারকেই এতগুলি মৃত্যুর দায় নিতে হবে। ৬ দফা দাবি-সহ পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসে ঢুকে বিক্ষোভ দেখতে চাইলে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের সেলও ফাটায়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক হতে দেখে কিছুটা পিছু হটে ইউনূস সরকার। বিক্ষোভকারীদের ৬ দফা দাবিই মেনে নিল অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূসের শিক্ষা ও আইন উপদেষ্টারা মাইলস্টোনের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঠিক হয়, আপাতত ক্যাম্পাসেই একটি তথ্য কেন্দ্র তৈরি হবে। সেখান থেকেই নিহত ও আহতের তথ্য পাওয়া যাবে। কেউ নিখোঁজ থাকলে মিলবে সেই তথ্যও। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। যে ছাত্রদের ভুঁয়ো আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে তাঁর ক্ষমতায় আসা। এবার ছাত্রদের প্রকৃত আন্দোলনের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। আর বলপ্রয়োগ করতে গিয়ে আরও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।












Discussion about this post