যত দিন এগোচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে তত জটিল হচ্ছে। লন্ডনে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন আদেও সেই সময়ের মধ্যে হবে কিনা, এই নিয়ে যখন প্রবল জল্পনা কল্পনা, তখন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার বিকেলে আচমকা রাষ্ট্রীয় অতিথী ভবন যমুনাতে ডেকে নিলেন তিনি। আর সেই বৈঠকের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলছেন, নির্বাচনের বিষয়ে আলাপ হয়েছে কিনা সেটা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিএনপি জানতোই না এই বৈঠকের বিষয়ে? বিএনপিকে আড়ালে রেখে কি সরকার এমন কিছু করতে চলেছে, যেটা বিএনপি জানলে সমস্যায় পড়তে হবে সরকারকে? তবে কি বিএনপি এবং সরকারের যে মধুর সম্পর্ক দেখা যাচ্ছিল, সেটা কি শেষ হয়ে গেল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার সবথেকে বড় সুযোগ হল জাতীয় নির্বাচন না করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করা হলে। তাহলে এক্ষেত্রে বিএনপির নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। লাভবান হবে জাতীয় নাগরিক পার্টি। তারা নিজেদের ঘর ঘোচাতে পারবে। এমনকি বহু বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা, যারা নমিনেশন না পেয়ে এনসিপিতে যোগদান করবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই জানে, রাজনৈতিক দল এনসিপি সরকারের সঙ্গে কতটা সখ্যতা রয়েছে। সেটিকে কাজে লাগিয়ে তারা যে কোনও রকম কাজ করতে পারবে। মনে করা হচ্ছে, জামাতে ইসলামীও লাভবান হবে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিএনপি। বিএনপির নিচু স্তরে সমস্যা দেখা দিতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা দিলে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার জন্য বিএনপি তেমন চাপ দিতে পারবে না সরকারকে। তার কারণ, সরকারের কাছে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাখ্যা। সরকার বলতেই পারে, এই সরকার নতুন। এত বড় নির্বাচনের আয়োজন করার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করিয়ে আগে বোঝা দরকার, মানুষের পালস। পাশাপাশি এই সরকারের প্রশাসন কতটা মোকাবিলা করতে সক্ষম, সেটাও বোঝা উচিত। বিশেষ করে টার্গেট, দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন ঢাকা। এদিকে এই ঘোষণা সরকারের তরফে করা হলে, বিএনপি তীব্র প্রতিবাদ করবে, সেটা বলাই বাহুল্য। তাদের বক্তব্য থাকবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচন করা। বাকি নির্বাচন করবে নির্বাচিত সরকার।
বিএনপির তরফে এখন বলা হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিনের। আমরা আশা করেছিলাম, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। কি কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটা জানানো হবে। লন্ডনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। সেই বিষয়ে আশা করি নির্বাচন কমিশনারকে জানানো হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার তরফে। উভয়পক্ষের তরফে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলে প্রত্যেকে জানতে পারবো। এখন প্রশ্ন হল, সরকার আসলে কি করতে চাইছে? জাতীয় নির্বাচনার ঘোষণা দেবেন? নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন? একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অন্দরে।












Discussion about this post