সম্প্রতি ব্রিটেন সফর করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। সেখানে গিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি তিনি। যা ঘিরে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমালোচনা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক দিক থেকে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। আর সেই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আরো একটি দেশ থেকে এল ঢাকার জন্য বড় ধাক্কা। বাংলাদেশের উপর ক্ষুব্ধ ইউক্রেন।বিপদে ঢাকা।
রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ চলমান। বেশ কয়েক বছর ধরে চলমান যুদ্ধে, রাশিয়া ইউক্রেনের বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ কিয়েভের। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। আর সেই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত গম আমদানি করছে বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। ইউক্রেনের দাবি, বাংলাদেশের ওই প্রতিষ্ঠান গুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা যেন জারি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইতিমধ্যেই ঢাকাকে হুশিয়ারি দিয়েছে কিয়েভ। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশকে চুরি করা গমের আমদানির বাণিজ্য বন্ধ করতে সতর্ক করা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু সেই বাণিজ্য তারা বন্ধ করেনি। এবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চরম পথে হাঁটতে পারে ইউক্রেন।
বেশ কিছু রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনের বেশ কিছু কৃষিজমি দখল করে রেখেছে রাশিয়া। আর সেই কৃষি জমি থেকেই মস্কো সংগৃহীত গম নিয়ে নিচ্ছে। ইউক্রেন দাবি করছে, ইউক্রেনের ওই কৃষি জমি থেকে তোলা গমের সঙ্গে রাশিয়ার কৃষি জমিতে উৎপাদিত গমের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে সেগুলি রপ্তানি করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এমনকি বাংলাদেশও সেগুলি আমদানি করছে বলে দাবি তাদের।
এদিকে রাশিয়ার দাবি, আগে ওই অঞ্চল ইউক্রেনে ছিল। বর্তমানে রাশিয়ার অধীনে। ফলে সেটাকে চুরি বলে না। সূত্রের খবর, নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাস থেকে ওই গম আমদানি নিয়ে বাংলাদেশকে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠি গিয়েছে বিদেশমন্ত্রকেও। কিন্তু ঢাকা এই নিয়ে কোনও কথা বলেনি। ভারতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূত ওকেলজান্ডার পোলিশচুক জানিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেন এবার সরব হবে।
এখানে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে একের পর এক চাপ আসছে বাংলাদেশের উপর। আর তাতে বিপদে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফের ধাক্কা পেল ঢাকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার কি প্রতিক্রিয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post