বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের শাসনমলে সেদেশের পরম মিত্র হয়ে উঠেছে পাকিস্তান ও চিন। কিন্তু এবার সেই চিন ও পাকিস্তানকেই বড় ধাক্কা ইউনুসের। এর কারণ, ভারতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা। দীর্ঘ ১০ মাসে ভারত বিরোধিতা করে যেভাবে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে গিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস, এবার সেই সম্পর্ক উন্নত করতেই নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গত ১৬ জুন চিনের কুনমিঙে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেয় চিন, পাকিস্তান আর বাংলাদেশ। ঢাকার প্রতিনিধিত্বে বাংলাদেশের প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী চীনা উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুন ওয়েইডং এবং পাকিস্তানি অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়েছিল।
এরপর ২৬ জুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ, চীন এবং পাকিস্তানের জোটের সম্ভাবনা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি সম্প্রতি এই তিন দেশের মধ্যে হওয়া বৈঠকটি কোনও রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না। পাশাপাশি এটি ভারতের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক কোনও বৈঠক ও নয় এটি এই দাবিতে তৌহিদ হোসেন জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তরফে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে লক্ষ্য করে এমন কোনও বিরোধিতা করা হয়নি।
বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বৈঠকের আগেই বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ, চীন এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা কুনমিংয়ে চীন-দক্ষিণ এশিয়া প্রদর্শনী এবং চীন-দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সুযোগে বৈঠক করেছিলেন। চীন এবং পাকিস্তানও বৈঠক নিয়ে পৃথক বিবৃতি জারি করেছিল। চীন বিবৃতিতে জানিয়েছিল , এই বৈঠকে তিনটি দেশের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং এবং যোগ্য প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সহায়তা করার বিষয়ে সম্মতি ও প্রদান করা হয়েছে। এরপর পাকিস্তান বিবৃতি দিয়ে জানায় বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত একটি ভিন্ন জোট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, তবে এবার চিন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে জোট বাঁধার সম্ভাবনার কথা খারিজ করে দিল বাংলাদেশ। অন্য কোনও দেশের সঙ্গে জোট বেঁধে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্য তাদের নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা। গত বছর অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরেই ঢাকা-ইসলামাবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন সমীকরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এরপর চলতি বছর মার্চ মাসে বেজিং সফরে যান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। চিনকে বাংলাদেশের একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। এমনকি ভারতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতেও দেখা গিয়েছে তাকে। কিন্তু এবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সেই চীন এবং পাকিস্তানকেই সরাসরি অস্বীকার করছে বাংলাদেশ।












Discussion about this post