বাংলাদেশের রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থিত অস্থায়ী মন্দির বুলডোজার দিয়ে ভাঙার ঘটনায় দেশীয় গণমাধ্যম গুলি খুব বেশি সোচ্চার না হলেও বিশ্বব্যাপী এই ঘটনাটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পরতেই বিশ্বব্যপি প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে। বিশ্বের দরবারে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওরেদের তরফ থেকে পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়ে বলা হল পুরো ঘটনাটি আইনের আওতায় ঘটেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপদে নিশ্চিন্তে রয়েছে। আর এই ঘটনা নিয়ে একটি হাস্যকর ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুস। অর্থাৎ এ ঘটনা এখন সরকারের কি অবস্থা তা খানিকটা স্পষ্ট।
সম্প্রতি ঢাকার খিলক্ষেতে অবস্থিত দুর্গা মন্দির প্রতিমা সহ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সেই দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশ্যেও এসেছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্ভুক্তি সরকারের তরফে ক্ট দেওয়া হয়েছে সেই বিবৃতির একেবারে শেষে বলা হচ্ছে, খিলক্ষেতের ওই অস্থায়ী মন্দিরের প্রতিমা যথাযথ মর্যাদার সঙ্গেই বালু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। সরকারের যদি দাবি পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্দির ভাঙার উদ্দেশ্যে যেখানে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে প্রতিভা সহ মন্দির থেকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে সেখানে কার া যথাযথ মর্যাদায় প্রতিমা টিকে বালু নদীতে বিসর্জন দিল সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নাকি হিন্দু সংখ্যালঘুরা প্রতিমার ভাঙ্গা টুকরো গুলিকে উদ্ধার করে বিসর্জন দিয়েছে? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে এবার বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিবৃতিতে বলা হচ্ছে কোনো পরিস্থিতিতেই সরকারি জমি দখল করে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ করা অনুমোদিত নয়। ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় একটি দুর্গা মন্দির ধ্বংসের অভিযোগে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, প্রকৃত ঘটনা হলো- গত বছর দুর্গাপূজার সময় পূর্বানুমতি ছাড়াই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন একটি জমিতে অস্থায়ী পূজা মণ্ডপ স্থাপন করেছিল। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ শর্তে অনুমতি দেয় যে পূজা উদযাপন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়োজকরা অস্থায়ী মণ্ডপটি সরিয়ে ফেলবেন।
তবে দুঃখের বিষয় হলো, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পূজা শেষ হওয়ার পর আয়োজকরা পারস্পরিক শর্ত লঙ্ঘন করে অস্থায়ী মণ্ডপটি সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তারা সেখানে একটি কালী মূর্তি স্থাপন করে।
বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরেও দুর্ভাগ্যবশত তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে উপেক্ষা করে মণ্ডপটিকে স্থায়ী করার উদ্যোগ নেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, মণ্ডপের আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন রেললাইনের উভয় পাশে অবৈধভাবে নির্মিত শত শত দোকান এবং রাজনৈতিক দলের অফিসসহ সমস্ত অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণের জন্য একটি পাবলিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
অর্থাৎ তাদের দাবি বাংলাদেশ সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে উপাসনালয়ের সুরক্ষা। বাংলাদেশকে তার সমন্বিত ঐতিহ্য বজায় রাখতে কখনও বাধা দেয়নি। যেমনটা সরকারের তরফ থেকেও বলা হয়েছিল দেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুটা নিরাপদ নিশ্চিন্তে রয়েছে ঠিক একই ধরনের বিবৃতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর।
কিন্তু এটাই কি প্রকৃত সত্য? অনেকেরই দাবি এটা সত্য নয়। কারণ ২৪শে জুন ঢাকায় অবস্থিত ভেতর দুর্গা মন্দির ভাঙার চরম সতর্কতা দিয়েছিল কট্টরপন্থীরা এমনই অভিযোগ সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের। এমনকি সেনা তরফে জানানো হয় তারাই মন্দিরটি অবসর নির্দেশ হয়েছে সরকারের তরফে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সতর্ক করে বলেছিলেন যদি এটি অপসারণ না করা হয় তোকে ভবিষ্যতে যদি কোন অপটিকোর ঘটনা ঘটে তাতে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ সেনাবাহিনী। আর পুরো ঘটনাটি কট্টরপন্থীদের মদত দাতা ইউনূসের নির্দেশেই সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগও উঠে এসেছে কারণ বাংলাদেশের যতগুলি মসজিদ এবং মাদ্রাসা আছে সেগুলি যদি অস্থায়ী ভাবেও করে ওঠে সেগুলি ভাঙার দুঃসাহস দেখাবেন না প্রধান উপদেষ্টা।












Discussion about this post