৭ মে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ভারতের,গোটা দেশ জুড়ে বেজে উঠবে রেড সাইরেন! কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে একটা প্রশ্ন বারে বারে উঠে আসছিল, ভারত কবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত শুরু করবে? এবার হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সময় এসে গিয়েছে। প্রথমেই আমরা তিন সেনাবাহিনীকে সামরিক ড্রিল করতে দেখেছি। এবার পালা ভারতের সাধারণ নাগরিকের, ৭ই মে ভারতের প্রতিটির রাজ্যের নাগরিকদের ‘মকড্রিল’ শুরু হতে চলেছে। আর এই মকড্রিলের মাধ্যমে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকের করনীয় সহ মোট পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছে ভারত সরকার। চলুন এই মক ড্রিল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে, ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর, ইতিমধ্যেই দেশের প্রতিটি রাজ্য তথা গোটা ভারতবাসীকে যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়ে দিল ভারত সরকার। কেন্দ্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর দপ্তর থেকে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এই যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশ এসেছে। অর্থাৎ আগামী ৭ই মে প্রতিটি রাজ্যের সাধারণ নাগরিককে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে সামিল হতে হবে। গোটা ভারতবর্ষে ড্রিল শুরু হবে, আর এতে অংশগ্রহণ করতে হবে দেশেরই সাধারণ নাগরিককে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফ থেকে প্রতিটি রাজ্যের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে এই যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ে মহড়া দিতে হবে।
উল্লেখ্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ নির্দেশে যে প্রস্তুতি গুলি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলি হল, বিমান হামলার সময় সাইরেন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে হবে, ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষ অর্থাৎ পড়ুয়াদের ভূমিকা কি হবে, সচেতন থাকতে হবে তাদের, হঠাৎ ব্ল্যাক আউট হয়ে গেলে কি কি করনীয়, যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার কাজ চালাতে হবে আর নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। এই পয়েন্ট গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে একবার জেনে নেওয়া দরকার এই মগ্রিল আসলে কি এবং কেনই বা এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? মূলত যুদ্ধের আবহে করা হয়ে থাকে মক ড্রিল। হঠাৎ করে হামলা হলে সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ থাকতে পারে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কী করতে হবে না হবে সে সবই শেখানো হয় মক ড্রিলের মাধ্যমে।
এবার আগামী ৭ই মে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশে, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের স্কুল, কলেজ, অফিস, কমিউনিটি সেন্টারগুলিতে ওয়ার্কশপ করানো হবে। হঠাৎ হামলা হলে কাছাকাছি আশ্রয়স্থল কীভাবে খুঁজে বের করতে হবে তা শেখানো হবে এই ড্রিলের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, বিমান হামলার সময়ে সতর্কতামূলক সাইরেন ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে । পাশাপাশি রাতে হামলার ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমানের খবর পাওয়া মাত্র যাতে হঠাৎ করে সমস্ত আলো নিভিয়ে দিয়ে ‘ ব্ল্যাকআউট’ করে শত্রু বিমানবাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দেওয়া যায়, তারও মহড়া হবে।
রাজ্য সরকারের তরফেও প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মহড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে। স্কুল, কলেজে সচেতনতা শিবির হবে। সিভিল ডিফেন্স, দমকল, পুলিশ বাহিনী সক্রিয় ভূমিকায় থাকতে হবে। কলকাতা পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করবে। বলা হচ্ছে, সাইরেন বাজলে, আতঙ্কিত হবেন না। অযথা বিব্রত না হয়ে, প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী কৌশলগুলি অবলম্বন করুন, যেমন কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন , কোথায় আশ্রয় নেবেন, কীভাবে সংকটকালীন সময়ের জন্য জলের বোতল, ওষুধ, টর্চ সঙ্গে রাখবেন সবটাই এদিন মকড্রিলের মাধ্যমে শেখানো হবে দেশের প্রতিটি নাগরিককে। এই বিষয়ে অযথা কোনও গুজব ছড়াবেন না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জন পর্যটকের। আহত হন বহু মানুষ। কেন্দ্রের দাবি, এই হামলার পেছনে ছিল পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী। সীমান্তে চরম উত্তেজনা,প্রতিরাতে রাত লাগাতার গুলি চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনা, পালটা জবাব দিচ্ছে ভারতও।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবার এভাবে দেশজুড়ে যুদ্ধ প্রস্তুতির মহড়া হচ্ছে। সাইরেন বাজিয়ে ব্ল্যাক আউটের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। তারপর আবার ২০২৫ এ এল মক ড্রিলের নির্দেশ! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এই মহড়া হবে দেশের প্রতিটি জেলায় শুরু হতে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের।












Discussion about this post