বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব ড. শফিকুল আলম বলেছেন, ড. মহম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যে ভাষণ দিয়েছেন, সেটা ছিল যুগান্তকারী। অন্তত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, তাদের খবরে বলা হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যকে এক যুগান্তকারী ভাষণ হিসাবে তুলে ধরেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়েতে নায়েবে আমির সৈয়দ মহম্মদ তাহের..তারা অধিবেশন কক্ষে মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বেরিয়ে এসে বলেছেন, যে তারা ইউনূসের এই বক্তব্যকে যথেষ্ট শক্তিশালী বক্তব্য বলে মনে করেন। তার দল একেবারে নিশ্চিত হয়েছে যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের তিনি সঙ্গে নিয়েছেন, এটা এই সময় দেখানো উচিত ছিল। এমনকি তিনি বলেন, ড. ইউনূস ব্যাখ্যা করেছেন, কিভাবে দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এনেছেন দেশে। বিএনপি মহাসচিব এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য অনুসারে অনেকেই বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘের ভাষণ দারুণভাবে সফল দেখছেন তারা। তবে জামাতে নায়েবে আমির প্রশংসা করেছেন ধীরে। অনেকে বলছেন, তবে কি জাতিসংঘে ইউনূসের ভাষণেই গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেল? তবে কি ঝড় উঠতে চলেছে বাংলাদেশে?
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘের ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস একরকম তার সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে স্বৈরাচার সরকার ফিরবে না। অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকার যে আর ফিরবে না, সেটা কি তিনি বলতে চাইলেন? নাকি আর কোনও স্বৈর সরকার ফিরবে না, সেটা তিনি বলতে চাইলেন? অন্যদিকে তিনি বোঝাতে চাইলেন, তার সরকার সংস্কার বিষয়ক কাজ করছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনকে লক্ষ্য করে তারা কাজ করছে। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি ক্ষমতা পেয়ে আকড়ে ধরে বসে নেই। বরং গোটা দেশটিকে একটি স্থায়ী সরকারের হাতে তিনি তুলে দিতে চান, সেটি বোঝাতে চাইছেন।
এমনকি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন যুদ্ধ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সেই সময় তার সঙ্গে যাওয়া সফর সঙ্গীরা যেমন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ জামাত, এনসিপি নেতারা..তাদেরও ওই অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। ইউনূস যখন এমন বক্তব্য রাখেন, তখন জাতিসংঘের সামনে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছে। মুহাম্মুদ ইউনূস জাতিসংঘের ভাষণে বলেন, তিনি সংস্কার করার জন্য কমিশন গঠন করেছেন। এছাড়াও দেশে বিনিয়োগের জন্য তিনি নানাভাবে বন্দবস্ত করেছেন। কিন্তু তিনি যেগুলি বলেননি তা হল, দেশে মব বেড়েছে। তার আমলে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার হার কমছে। অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাস লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি শেখ হাসিনার আমলের থেকে অনেক খারাপ। কিন্তু সেগুলি তিনি উল্লেখ করেননি। শুধু উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। যার ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক বিশ্বের কাছে শুধু ভাওতা দিয়ে এলেন তিনি।












Discussion about this post