সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বৈঠক করছেন। নির্দেশনা দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা যে সমস্ত অ্যাপসের মাধ্যমে নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেই সমস্ত অ্যাপস বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে না তো? কারণ হাসিনার ডিজিটাল সংযোগ ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউনূসের সরকার।
শেখ হাসিনা ভারতে বসে যে বিভিন্ন নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি তিনি টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে নির্দেশনা দেন, সেটাও জানা গিয়েছে। তবে নতুন একটি অ্যাপসের নাম সামনে এসেছে। সেটি হল বোটিম। এই অ্যাপস সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে। জানা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ঠেকাতে দুই অ্যাপ বন্ধের চিন্তা। অর্থাৎ টেলিগ্রাম ও বোটিম বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে দিচ্ছে না তো? কারণ টেলিগ্রাম সিকিউরিটির দিক থেকে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, ব্যবসায়ী এই অ্যাপসটি ব্যবহার করে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য করে থাকেন। এরমধ্যে বাংলাদেশে ঘটা খাগড়াছড়ির ঘটনাতে তিনি মন্তব্য করেন, স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ এবং ভারত জড়িত থাকতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের যে কোনও কিছু ঘটলেই সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আওয়ামীলীগ এবং ভারতের ওপর দোষ চাপায়। এক্ষেত্রেও সেটাই দেখা গেল। এটা সরকারের চরম অপারগতা। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি অন্য দেশের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য, যেটা বাংলাদেশের জন্য খারাপ। এরমধ্যে তিনি আরও কয়েকটি মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনার অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অনলাইনে বৈঠক করছেন। কয়েকদিন আগেই ২৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ এই দুটি অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোর কমিটির সভায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আপাতত রাতে এই দুটি অ্যাপটির গতি কমিয়ে দেওয়া যায় কিনা, সেই আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরে এই দুটি অ্যাপ বন্ধ করে দিতে চায় তারা। কোর কমিটির বৈঠকে একাধিক সূত্র বলছে যে, যাদের গ্রেফতার করা হয়, তাদের ফোন বাজেয়াপ্ত করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এতে ১৫০ জনের ফোনে এই দুটি অ্যাপ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। এমনকি সেই ফোনগুলি থেকে তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের নানা তথ্য পেয়েছে। এখান থেকেই তারা আশঙ্কা করছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা পরিকল্পনা করতে পারে। আৎ সেই কারণে এমন সিদ্ধান্ত। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপ বন্ধ করে কোনও দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যায় না। উল্টে দেশের বহু সাধারণ মানুষের অসুবিধে হবে। এবং জনগণের রোষে পড়বে সরকার। এখন দেখার, সরকারের এই সিদ্ধান্তের কার্যকর হলে, সাধারণ মানুষ কি প্রতিক্রিয়া দেয়!












Discussion about this post