ঢাকার হজরত শাহজালাল-সহ দেশের তিন বিমানবন্দরে ১৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইজারা নবিকরণ করবে না বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলিতে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এমনটাও শোনা যাচ্ছে, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা ব্রিটেনের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও এই বিষয়ে এখনও কেউ মুখ খোলেননি, তবে ১৬ প্রতিষ্ঠান যে বন্ধ হচ্ছে, তার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে সব প্রতিষ্ঠানের ইজারার মেয়াদ ৩০ জুন মধ্যরাতে শেষ হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের ইজারা নবায়ন করা হয়নি সেগুলো হল—এরোস ট্রেডিং, মেসার্স সজল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মাহবুবা ট্রেডার্স, নাহার কনস্ট্রাকশন, এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড, এ ফাইভ রোডওয়ে লিমিটেড, ওয়ার্ল্ড ট্রাস্ট ট্যুরিস্ট কার সার্ভিসেস কোং, শিরিন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স হাওলাদার অ্যান্ড সন্স, মেসার্স অথৈ এন্টারপ্রাইজ, ওলফ করপোরেশন, আড়িয়াল ক্রিয়েটিভ স্পেস, ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশন এবং ডিপার্টমেন্ট এস কনসালটিং। পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্যালকন এজেন্সি এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ফ্যালকন এয়ারপোর্ট সার্ভিস টিমের ইজারাও নতুন করে করা হচ্ছে না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে গত ২৯ জুন রেজিস্টার্ড ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কেন এই ১৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর খাঁড়া নেমে এল? যাত্রী পরিষেবায় অবহেলা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য। সেটাই এখন মূল আলোচনার বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের গণমাধ্যম দাবি করেছে, বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরগুলির যাত্রী পরিষেবায় আরও আধুনিকতা, জবাবদিহিতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের পরিষেবা ও নিরাপত্তার জন্য নতুন নীতিমালাও আনতে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। তাহলে কি চট্টগ্রাম বন্দরের মতো ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাও বিদেশী কোনও সংস্থার হাতে তুলে দিতে চাইছে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? বাংলাদেশ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন নীতিমালায় যাত্রীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও নিয়ন্ত্রিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সমস্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে যাত্রীদের নানা অভাব অভিযোগ ছিল। তাই তাঁদের সঙ্গে আর নতুন করে চুক্তি করা হচ্ছে না। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা এক ব্রিটিশ সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইজারা বাতিল হওয়া এই ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইজারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এই মুহূর্তে পলাতক। তাই এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের চুক্তি নবিকরণ করা হচ্ছে না। অর্থাৎ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাও এই ঘটনার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমরিং টার্মিনালের দায়িত্ব যেমন দুবাই ভিত্তিক সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই পাকা। তেমনই মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক লন্ডন সফরের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছিল। সেখানেই ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়েও কথা হয়। বাংলাদেশেই কানাঘুঁষো চলছে, এক ব্রিটিশ সংস্থা নাকি আগ্রহী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজ করতে। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের যে দাবি, মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশীদের হয়েই কাজ করছেন, সেটাই এখন দিনের আলোর মতো পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে।












Discussion about this post