ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবন বঙ্গভবনে। গতকাল রাত থেকেই এক পোস্টে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে বাংলাদেশ। হাসিনার পর কি এবার তবে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে টার্গেট ইউনূসের? বাংলাদেশে ২৪ শে ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় আছে এবং সে দেশের ক্ষমতায় আসীন হয়েছে মোহাম্মদ ইউনূস। কান পাতলেই রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা মতবিরোধ শোনা যায়। সর্বদায় যমুনা এবং বঙ্গভবন তত্ত্ব থাকে দুই প্রধানের বাক্য বিনিময়। গত দেড় বছরের ইউনূসের শাসনকালে খুব কম রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস কাছাকাছি এক টেবিলে এসেছে। এরই মধ্যে গতকাল মধ্যরাত থেকে হঠাৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আচমকাই পদত্যাগ পোস্ট করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের শুরু হয়ে যায় জোড়চর্চা। তবে কি ইউনূসের চাপেই পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু? ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি পোস্ট করা হয় সেই পেজে। তাতে বলা হয়, পেজটি হ্যাক করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রপতির মতন পদের মানুষের সোশ্যাল মাধ্যমের পেজ কেই বা হ্যাক করতে পারে! তবে কি এর পিছনে রয়েছে ইউনূসের গভীর চক্রান্ত। গতকাল অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর রাত্রি নাগাদ ‘রেজিগনেশন’অর্থাৎ ‘পদত্যাগ’ লিখে পোস্ট করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতির পেজ থেকে।তবে পোস্টটি ‘ফ্রেন্ডস অনলি’ ছিল। তাই সবাই পোস্টটি দেখতে পারেনি। শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির পেজে থাকা বন্ধুবান্ধব দের মধ্যেই যা দেখতে পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে একটি ঘটনায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পোস্ট রহস্যজনক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ- গতকালই জাতীয় নাগরিক পার্টি অর্থাৎ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বড় বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে হবে। তিনি ভয়ংকর দাবি করে বলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যদি সেই নির্দেশিকায় সই করেন, তবে সেটা নাকি অভ্যুত্থান চেয়ে কফিনে শেষ পেরেক হবে। এক প্রকার হুমকির সুরেই নাহিদ বলেছিলেন, যদি চুপ্পু এই আদেশ দেন, তার কোনও ধরনের রাজনৈতিক বৈধতা নেই, এমনকি আইনি, সাংবিধানিক বৈধতাও নেই। নাহিদের ভয়ংকর এই বক্তব্যের পরেই রাতে রাষ্ট্রপতির ভেরিফায়েড সোশাল সাইডে পদত্যাগ পত্রের পোস্ট স্বাভাবিকভাবেই দুইয়ে দুইয়ে চার করতে অসুবিধা হচ্ছে না কারোর। কয়েক সপ্তাহ আগেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, সাহাবুদ্দিন দেশত্যাগ করতে পারেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারেন ইউনূস নিজে। কারণ ইউনূস নিজেও জানেন তার প্রধান উপদেষ্টার পদে থাকায় বাংলাদেশের যা ক্ষতি হয়েছে তা মানুষ বুঝে গেছে। কাজেই প্রধান উপদেষ্টার যে আয়ু আর বেশি দিন নেই তা তিনি জানতেন। তাই ইউনূস সাহেবের এখন সখ হয়েছে রাষ্ট্রপতি হওয়ার, তাই তিনি গোপনে গোপনে চুপ্পুকে যে পথ থেকে সরাতে প্রস্তুতি দিচ্ছিলেন তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। একটি রিপোর্ট সেই সময় দাবিই প্রকাশ করেছিল। সেখানে আরো বলা হয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি এবং ইসলামপন্থী দলগুলিকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করে নিজে রাষ্ট্রপতি হতে চাইছেন ইউনূস। অবশ্য, সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরাতে গত ১৫ মাস ধরে বেশ কয়েকবার ইউনূস লাগাতার চেষ্টা করে গেছেন। তবে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পার্লামেন্ট ছাড়া সম্ভব নয়। এমপি-রা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন। এটাই বাংলাদেশের সংবিধান। তবে কি ইউনুস বাংলাদেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু বর্তমানে পার্লামেন্ট নেই। অবশ্য, বাংলাদেশের অনেক বিশ্লেষক এবং আওয়ামি লিগের অভিযোগ, ইউনূসের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বেআইনি। কাজেই বাংলাদেশে যে আইন বলে কিছু থাকবে না তা খুব স্পষ্ট।












Discussion about this post