জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারোয়ার তুষারের ভাইরাল অডিও ক্লিপ সামনে আসতেই নানা মন্তব্য উঠে আসছে। এদিকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে দল। তবে এর আগেও বহু নেতাকে তারা কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে, কিন্তু কোনও নোটিসেই কার্যকর হয়নি। কিন্তু এইবার নিজের দলের নেত্রীই এমন অভিযোগ করছে। সেখানে দল কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা সব থেকে বড় প্রশ্ন। তবে এর মাঝেই দেখা গেল, সারোয়ার তুষার ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে অন্য এক দলকে দোষারোপ করছেন। এর পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির একজন নেত্রী ফেসবুকে পোস্ট দিলেন। তার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।
তিনি সেই নেত্রী নন বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে সারোয়ার তুষার যে নেত্রীকে কু প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই নেত্রী নাকি সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, সেই কথোপকথনটি সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর আবার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তখন শোনা যায়, তিনি অভিযোগ করছেন। এমনকি তিনি অভিযোগ করে যার যার কাছে দরবার করেছেন, তাতে যে কোনও সুরাহা পাননি, সেটাও উল্লেখ করেছেন। আর এটি সামনে আসতেই তোলপাড় বাংলাদেশ। তবে কি বহিষ্কার হতে পারেন সারোয়ার তুষার? তবে ভয়ানক বিপদে পড়তে চলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, সেটা বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে দল। এমনকি এই ঘটনার যত দিন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাকে দলীয় সমস্ত ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সারোয়ার তুষার বড়সড় কোনও শাস্তি পেতে চলেছেন? এরই মাঝে সারোয়ার তুষার ফেসবুক একটি পোস্ট দিয়ে বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকে তিনি বিএনপির বিভিন্ন যুবপদ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন রাজনৈতিক কারণে বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, এই অডিও ভাইরাল হওয়াতে বিএনপি দায়ী। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই এনসিপি নেতা আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করেনি। অন্যদিকে এনসিপি নেত্রী তাজনুভা যাবেন একটি পোস্ট করলেন।
তিনি বলেন,যে অডিও ক্লিপের সঙ্গে আমার ফটো কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা সঙ্গে আমি যুক্ত নই। এবং সেটি আমার নয়। এবং তিনি বলেন, এই ঘটনার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এদিকে সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর ওই মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছেন টেলিফোনে, যে মেয়েটিকে খুব প্রস্তাব দিয়েছিল বলে অভিযোগ সারোয়ার তুষার। সেখানেই শোনা যাচ্ছে, ওই নেত্রী সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। এমনকি তাকে এটা বলতে শোনা যায়, এই প্রথম নয়, এর আগেও তাদের দলের বহু নারী সদস্যকে এমন কুপ্রস্তাব দিয়েছেন সারোয়ার তুষার। এমনকি এই বিষয়ে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি। বরং উল্টে তাকেই দোষারোপ করা হচ্ছে।
কেন তিনি অডিও ক্লিপ রেকর্ড করেছেন, সেই নিয়ে তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। এমনকি ওই নেত্রী অভিযোগ করেছেন, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে তিনি নানা প্রমাণ দেখানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তবে পরবর্তীকালে দেখা গেল, সারোয়ার তুষার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে শুধরে নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিএনপিকে দায়ী করেন। তবে এই ঘটনা সামনে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিও কাঠগড়ায়। এখন তারা এই সংকট কিভাবে কাটিয়ে ওঠে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post