২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে বাংলাদেশের বিপুল মানুষ সমর্থন করেছে। এমনকি এককাট্টা হয়েছিল বিপুল মানুষ। কিন্তু এখন ছাত্রদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, কার্যকলাপ মানুষকে আঘাত করছে। আস্থার বদলে অবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনসিপি গঠনের পর জনপ্রিয়তা আরও বেশি করে ভাটা পড়েছে। তারা কখনও প্রতিবাদের ডাক দিলে তেমন লোক দেখা যায় না। এমনকি ছাত্রনেতাদের জীবনধারণের বিলাসিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজশাহীতে পথসভাতে একদিকে যেমন হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছেন, ঠিক অন্যদিকে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগে গণভবন দখল করেছি, এবার সংসদ ভবন দখল করব। আসলে তাদের উদ্দেশ্য কি? যেভাবে গণ ভবন দখল করা হয়েছিল, সেইভাবে নেতিবাচক হয়ে দখল করে নেওয়া নাকি ভোটের মাধ্যমে দখল করে নেওয়ার কথা বললেন তিনি? বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাদের মুখোশ খুলে যাচ্ছে। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
নাহিদ ইসলাম গণ ভবনের সঙ্গে সংসদ ভবনের কথা কেন তুলছেন? গণভবন তো একটি অভ্যুত্থান। যদিও সেই অভ্যুত্থানের নামে, শেখ হাসিনার পতনের নামে তার সমস্ত কিছু লুঠ করা হয়েছিল। সেটা করার জন্যই কি ছাত্ররা আন্দোলন সংগঠিত করেছিল? নাহিদ ইসলাম এদিন বলেন, ছাত্রদের অভূতপূর্ব জয় উদযাপন হবে। অর্থাৎ এর আগে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী যে কথা বলেছিলেন, যে ৪০০ আসনের ৩০০ টি আসনই এনসিপি জয় করবে, সেই স্বপ্ন দেখছেন নাহিদ ইসলাম। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিএনপির তরফে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তবে নির্বাচন নিয়ে এত ভয় কেন? কেন এত গড়িমসি?
নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, ৩ রা অগাষ্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকলকে উপস্থিত থাকতে হবে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। কেবল শেখ হাসিনার পতন নয়, আমাদের সকলের স্বপ্ন ছিল, নতুন বাংলাদেশের। কিন্তু ৫ই অগাষ্ট এর পরে নানা শক্তির স্বরযন্ত্রে সেটা অবরুদ্ধ হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বারেবারে নতুন বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আদেও কি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে জনগণ? হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে কি আদেও আলাদা কিছু করছেন হাসনাত, নাহিদরা? আওয়ামী লীগ যে একপাক্ষিক নির্বাচনের ট্রেন্ড শুরু করেছিল, সেই পথেই হাঁটছে কিনা আজকের বাংলাদেশ….উঠে আসছে প্রশ্ন। যদি প্রতিশোধ পরায়ন হয়, তবে আজকের বাংলাদেশ আলাদা কোথায় হল? ফলে গণ ভবন জয়ের সঙ্গে সংসদ ভবন জয়ের বিষয়টি বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। যে নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিল বাংলাদেশ বাসী, সেটা এখনও পাওয়া যায়নি। হয়তো পেতে পারে যদি ছাত্রনেতাদের সদিচ্ছা থাকে। কিন্তু সেই সদিচ্ছাটা কি আদেও প্রত্যাশা করা যায়, উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post