শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পথেই নেপালে সরকারবিরোধী আন্দোলন। আর তাতেই বেসামাল নেপালের মন্ত্রিসভা। গণবিদ্রোহের দাবি মেনে দেশজোড়া বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলেন। জানা যাচ্ছে, প্রায় সাতজন মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে তিনিও শেখ হাসিনার মতো দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছেন। অনেকটা জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের মতোই নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি সেনাবাহিনীর কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান এবং তার পরেই পদত্যাগ করেন। জানা যাচ্ছে, ওলির পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরাও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। মন্ত্রীদের অনেকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। ওলির ব্যক্তিগত বাসভবনেও আগুন ধরানো হয়েছে। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে। সেবারও প্রবলবাবে ঢাকার গণভবনে প্রবেশ করে উন্মত্ত ছাত্র-জনতা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাহায্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। হাসিনা ভারতে আশ্রয় পেলেও নেপালের প্রধানমন্ত্রী কোথায় যান সেটাই এখন দেখার।
উল্লেখ্য ভারতের আরেক প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কাতেও ২০২২ সালের জুলাই মাসে তুমুল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের দখল নিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। প্রাণ ভয়ে বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষে। ফলে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল নেপালে। বাংলাদেশে যেমন ছাত্ররা কোটা বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তেমনই নেপালে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভে ফুঁসে উঠল নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। সেই আন্দোলন দমন করতে সরকার ব্যাপক দমনপীড়ন চালালে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাসাপাশি কয়েক শতাধিক জখম হয়েছে। দাবি, পুলিশ সরাসরি গুলি চালিয়েছে বিক্ষোভকারীদের দিকে। যেমনটা অভিযোগ উঠেছিল বাংলাদেশে। এরপর আরও ক্ষেপে যায় নেপালের ‘জেন জি’ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যায়। অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।
১ জুন, ২০০১ তারিখে নেপালের নারায়ণহিটি রাজপ্রাসাদে একটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। যেখানে রাজা বীরেন্দ্র, রানী ঐশ্বর্য এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ নয়জন নিহত হন। এরপর নেপালের শেষ রাজা হিসেবে জ্ঞানেন্দ্র রাজ সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় নেপালে গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। অবশেষে নেপালে হিন্দু রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে ২০০৮ সালে। রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে তাঁর সিংহাসন ত্যাগ করতে হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নেপালে ফের রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে উত্তাল হতে শুরু করেছিল। গত তিন দশক ধরে ক্রমাগত অস্থিরতার মুখোমুখি হওয়া নেপালে পাকিস্তান, চিন, আমেরিকা, খ্রিস্টান মিশনারি এবং ইসলামিক মৌলবাদীদের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এরই প্রতিবাদে কাটমাণ্ডুর রাস্তায় লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হিন্দু রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছিল। তাদের দাবি, নেপালকে আবারও ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা হোক। কিন্তু এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করা নিয়ে ওলি সরকারের নির্দেশিকায় আগুনে ঘি পড়ে। জেন-জি প্রজন্ম, যারা তথ্য-প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়াতেই বড় হচ্ছে তাঁদের রোষে পড়তে হল নেপাল সরকারকে। প্রশ্ন উঠছে এর পিছনে কি বড় কোনও চক্রান্ত রয়েছে?
বিগত এক দশকে ভারতকে ঘিরে একের পর এক দেশে সরকার পরিবর্তন বা রিজিম চেঞ্জের খেলা চলছে। অনেকেই এর পিছনে মার্কিন ডিপ স্টেট ও পাকিস্তানের হাত দেখছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে ভারতে ভোট চুরি, এসআইআর এবং চাকরি চুরির মতো বড় বড় ইস্যু নিয়ে আন্দোলন চলছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে ভারতেও এই ধরণের ঝটিকা আন্দোলন শুরু হতে পারে। ফলে সতর্ক রয়েছে ভারত সরকার। দেশের সমস্ত গোয়েন্দা বিভাগ এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির পুলিশ প্রশাসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post