ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। বিগত এক বছরে শুধুই অভিযোগের পাহাড় জমেছে। কিন্তু সেই অভিযোগের নিরীখে তথ্যপ্রমান দিতে পারেনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকার। আগস্ট থেকে পরবর্তী আট মাসে রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে মোট ৯২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷ তবে জানা যাচ্ছে, সব মামলা বা অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নয়, বিগত সরকারের সময়ের অভিযোগও আছে৷ এই সময়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। পাশাপাশি শেখ হাসিনা পরিবারের বাইরে আরো তিনটি বড় মামলায় চার্জশিট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে বড় মাপের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দের মামলায় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে গত ১১ মার্চ৷ এই চার্জশিটে শেখ হাসিনা ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আছেন শেখ রেহানা, সজীব ওয়ারজদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল৷ সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিনের মতো ব্যক্তিরা। কিন্তু সম্প্রতি যাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বিতর্কের ঝড় উঠেছে, সেই টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও চার্জশিটে তাঁর নাম নেই। অথচ, ব্রিটেনের নাগরিক এবং সেই দেশের সাংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে হইচই বাঁধিয়ে দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। তবে টিউলিপের পাল্টা আইনি নোটিশের পর পুরো চুপ করে গিয়েছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন।
সম্প্রতি আরেকটি ইস্যুতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি টিউলিপ সিদ্দিককে ফের নিশানা করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের নখ-দন্তহীন একাধিক সংবাদ মাধ্যমের হেডলাইন হল, “ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলনকারী গ্রুপকে নিষিদ্ধে পার্লামেন্টে ভোট দিয়েছেন টিউলিপ”। আসলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামে এক সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল। তাতে ব্রিটেনের ৩৮৫ জন সাংসদ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে পড়ে মাত্র ২৬টি ভোট। কয়েকজন ভোটদানে বিরত ছিলেন বলে জানা যায়। শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক দীর্ঘ সময় ধরেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য। তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির অন্যতম নেত্রীও বটে। ফলে তিনি সরকার পক্ষে ভোট দেবেন এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলি লিখছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি ও বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার কারণে তারা সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এমনিতেই বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে ক্রমাগত হুমকির মুখে কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লা তো প্রায়ই নিয়ম করে সাংবাদিক বা সংবাদ মাধ্যমকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি তাঁর এমনই এক প্রকাশ্য হুমকি নিয়ে প্রতিবাদও হয় ঢাকা প্রেস ক্লাবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ব্রিটিশ নাগরিক ও সাংসদ তখা সে দেশের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ বলতে শুধু তিনি শেখ হাসিনার বোনঝি। তাঁকে প্রথমে দুর্নীতির দায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হল। কিন্তু ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আভ্যন্তরীণ তদন্তেও সেরকম কোনও দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যায়নি। এরপর টিউলিপ মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় খোলা চিঠি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুরোধ জানান। এমনকি দুদকের চেয়ারম্যানকেও তাঁর সঙ্গে মুখোমুথি বসানোর দাবি জানান। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা টিউলিপের সেই আর্জি এড়িয়ে যান। এবার ফিলিস্তিনের পক্ষে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে কেন তিনি সমর্থন দিলেন না, এরকম অহেতুক প্রসঙ্গ টেনে টিউলিপের নামে বিরূপ প্রচার করার চেষ্টায় বাংলাদেশের প্রেস উইং। যদিও টিউলিপের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।












Discussion about this post