বাংলাদেশে হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ওবায়দুল কাদের। সেদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায় দুল কাদের। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা,ও শীর্ষ নেতৃত্ব তরফে আপাততনেতৃত্বে বদল আনার কথা ভাবা হচ্ছে না। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি মন্তব্য করে বসেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ নেত্রীর পরেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের স্থান সেহেতু তার নিরাপদ ও সুস্থ থাকাটাও জরুরি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টবার্তা ওবায়দুল কাদেরের।
বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও সরকারের দ্বন্দ্ব এতটাই প্রকট হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস যেভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাতে দেশের সেনা যে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে না তা এখন সকলের কাছে স্পষ্ট। যে যেকোনো সময় বাংলাদেশে সেনা শাসন জারি হতে পারে, বা প্রধান উপদেষ্টা কে তার পথ থেকে সরিয়ে নতুন অন্তবর্তী সরকার গঠন করা হতে পারে। আরিয়া বলে বাংলাদেশের সত্য নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন। যদিও সেটি একটি অডিও ক্লিপ। এর আগে ৫ ই আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর এই ওবায়দুল কাদের কোথায় আছেন তিনি কিভাবে পালিয়ে গেলেন এই নিয়ে নানা রকম জল্পনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ নয় মাস পর ওবায়দুল কাদের এবার প্রকাশ্যেই তার অবস্থান স্পষ্ট করলেন অর্থাৎ সামনে এলো তার কণ্ঠস্বর। এছাড়াও ৫ই আগস্টের পর তিনি কি অবস্থায় ছিলেন কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন সবটাই জানা গেল। কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ করে কেন এতদিন পর তোদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের বক্তব্য সর্বসমক্ষে আনবেন তিনি? এবং ঠিক এই সময় কেন দিলে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখবেন সেই প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু স্পষ্ট যে তিনি নিজেও বুদ্ধিতে এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি কারণ তিনি তার বক্তব্যের মাঝে বলেছেন দল নেত্রী অর্থাৎ তার কথায় মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এবং তার দলের নেত্রী যেভাবে তাকে নির্দেশ দেবে তিনি ঠিক সেভাবেই পরিচালিত হবেন। অর্থাৎ বলা যায় এই পরিস্থিতিতে ওবায়দুল কাদেরের এই সাক্ষাৎকার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ওবায়দুল কদরের কথায় অনেকেই মনে করছেন বিক্ষুব্ধ জনতা যখন ভাঙচুর লুটপাট চালাচ্ছিল সেই সময়। হয়তো কোন অর্থের মূল্যে ওই বিক্ষোভকারীদের কেউ ওবায়দুল কাদের ও তার স্ত্রীকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন, আবার ওবায়দুল কাদের নিজে বলছেন যে তাদেরকে চিনতে পেরে নিরাপত্তানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরেই প্রশ্ন উঠে এর পরে তিনি কি করেছিলেন, সেখানে ওবায়দুল বলেন, এরপরও বেশ কিছু মাস তিনি বাংলাদেশের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন।তিন মাস পরে বাড়িতে বাড়িতে যেভাবে তল্লাশি, অভিযান, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে তল্লাশি, যেভাবে শুরু হয়েছিল তাতে তার শরীরটাও একটু সমস্যায় পড়ছিল, ফলে অনেককিছু চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত এখানে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
পাশাপাশি নির্বাচন প্রসঙ্গে কাদের বলেন,এগুলো আলোচনার অপেক্ষা রাখে! সেগুলো চর্চা করার বিষয়। আমাদেরও একটা দৃষ্টিকোণ আছে। আজকে পৃথিবীর দেশে দেশে গণতন্ত্রের স্বরূপ সব জায়গায় একরকম নয়। আমাদের দেশে অপজিশনের যে চেহারা, সেখানে আমাদেরকে একটা ইলেকশন লিগ্যালি করতে হয়। সেটি আমরা করেছি। কিন্তু উন্নয়ন তো দেশের মানুষ যা চায়…. আজকে অপিনিয়ন পোল নেন, বেশিরভাগ লোক চায় শেখ হাসিনা আবার আসুক এবং শেখ হাসিনাকে আবার চাই। এ কথা আজ মানুষের মুখে মুখে। ইলেকশনটা হলে বুঝবেন।’
অর্থাৎ বাংলাদেশের সরকার বদর বদল এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতার চ্যুতির দীর্ঘ নয় মাস পরে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে দলনেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন জল্পনা সৃষ্টি করতে এবং আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেটি তার প্রতিটি কথার মাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে কি সদ্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ফের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নয়া উদ্যোগ নিতে চলেছে? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post