এর আগে গোটা বিশ্ব দেখেছে এয়ার স্ট্রাইক, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। এইবার ভারত কি পদক্ষেপ করবে? কারণ পাহেলগাউয়ের পর চুপ করে থাকবে না ভারত। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। পাকিস্তানের উপর কয়েকটি পদক্ষেপ করা হয়েছে ভারত সরকারের তরফ থেকে। তবে সেগুলি শুরুয়াত। এখনও গোটা ছবিটাই বাকি রয়েছে বলে বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এবার কি পারমাণবিক ঘাঁটি গুলিকে উড়িয়ে দেবে ভারত? সেদিকেই এগোচ্ছে ভারত সরকার? কিভাবে বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করছেন বিশ্লেষকরা, চলুন আলোচনা করা যাক।
এমনিতেই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সীমান্ত সংঘাত কোন দিকে এগোয়, তা রক্তচাপ বাড়িয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জকে। তারা দুই দেশকেই সংযম থাকার বার্তা দিয়েছে। এদিকে ১৯৯৯ সালে যখন কার্গিল যুদ্ধ হয়েছিল, তখনও এই প্রশ্নটা উঠেছিল, ভারতের তরফে অ্যাটাক করা হবে কি হবে না! আসলে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া আছে চারটি রাজ্যের সঙ্গে। জম্মু-কাশ্মীর, গুজরাট, রাজস্থান ও পাঞ্জাব। কিন্তু একের পর ঘটনা থেকে এইবার ভারতের উচিত পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। বলছেন বিভিন্ন এক্সপার্টরা। ওটা সিল হয়ে গেলে পাকিস্তান যোগ্য জবাব পাবে। এমনিতেই পাকিস্থানের অবস্থা নড়বড়ে। তার কারণ তাদের সামরিক শক্তি অর্থাৎ আর্মিরা তিনটি সীমান্তে লড়ছে। বালুচিস্তান, টিটিপি বা তেহরিক ই তালিবান যারা আফগান এবং পাকিস্তান সীমান্তে রয়েছে। এবং অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে। ফলে সব দিক থেকে লড়াই করতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। ফলে এই মুহূর্তে ভারত পারমাণবিক ঘাঁটি উদ্দ্যেশে কোনও পদক্ষেপ নিলে, বিপদে পড়বে পাকিস্তান।
পরিসংখ্যান দিক থেকে বিচার করলে দেখা যাবে, ভারতের জনশক্তি পাকিস্তানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি এবং রিজার্ভ ও আধা সামরিক বাহিনীও বড় পাকিস্তানের থেকে। পাকিস্তান কম জন শক্তি নিয়ে কাজ করে, তবে তাদের মধ্যে মুজাহিদ এর মতো আইএসআই নিয়ন্ত্রিনাধীন অনিয়মিত বাহিনী রয়েছে। তবে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১৪০ থেকে ১৫০টি বলে জানা যায়। যেটা ভারতের থেকে বেশি। ডেলিভারি সিস্টেমের মধ্যে শাহিন-টু থ্রি ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র, এফ ১৬ যুদ্ধবিমান, বাবর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ভারতের সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের থেকে ৬ থেকে ৮ গুণ বেশি। পাকিস্তানের ট্যাঙ্ক রয়েছে ৩ হাজার ৭৪২টি। সাঁজোয়া যান প্রায় ৫০ হাজার । কামান ৪ হাজার ৪৭২টি। অন্যদিকে ভারতের রয়েছে ভারতের ট্যাঙ্ক ৪ হাজার ৬১৪টি। সাঁজোয়া যান ১ লক্ষ ৫১ হাজার ২৪৮টি। কামান ৯ হাজার ৭১৯টি।
ফলে ভারত সার্বিক দিক থেকে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি অনেকটা বল যোগায় তাদের। কাজেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সেই ঘাঁটি শেষ করে দিতে পারে ভারত, তবে মুখ থুবড়ে পড়বে পাকিস্তান। এখন দেখার, শেষমেশ সর্বোচ্চ কি পদক্ষেপ করে ভারত সরকার।












Discussion about this post