পাত্র ভারতীয়, পাত্রী পাকিস্তানের। তাঁদের বিয়ে হচ্ছে, সন্তানও হচ্ছে। তারপর অবৈধভাবে ভারতেই থেকে যাচ্ছেন ওই পাক মহিলারা। এক জটিল অভিবাসী সমস্যা তৈরি হয়েছে পহেলগাঁও কাণ্ডের পর। এর পিছনে রহস্যটা কী?
আশ্চর্যের বিষয় হল, পহেলগাঁও কাণ্ডের পর যখন পাকিস্তানিদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র, সেই সূত্র ধরেই সিআরপিএফ জওয়ান মুনির আহমেদের ঘটনা সামনে আসে। ওই জওয়ান পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের সিয়ালকোট শহরের বাসিন্দা মিনাল খানকে বিয়ে করেন। আরও আশ্চর্যের বিষয়, তাঁদের নিকাহ বা বিয়ে হয়েছিল হোয়াটস্যাপ ভিডিও কলে। এরপর মিনাল স্বল্পমেয়াদি ভিসা নিয়ে ভারতে আসেন। কিন্তু চলতি বছরের ২২ মার্চ ওই স্বল্পমেয়াদি ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। তারপর থেকে মিনাল বিনা ভিসাতেই ভারতে অবস্থান করছিল। এরমধ্যেই ঘটে যায় পহেলগাঁও কাণ্ড। যদিও ওই সিআরপিএফ জওয়ানের দাবি, তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এই পাকিস্তানী স্ত্রীর ঘটনা সামনে আসতেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে সিআরপিএফ জওয়ান মুনির আহমেদকে। বিয়ের কথা গোপন করার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও স্ত্রীকে জেনেবুঝে এ দেশে থাকতে সাহায্য করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু মিনাল ও মুনির আহমেদের দাবি অন্য। তাঁরা বলছেন, সব জানিয়ে এই বিয়ে হয়েছে, আর দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদনও করা হয়েছে। আপাতত মামলাটি হাইকোর্টের বিচারাধীন। কিন্তু প্রশ্ন হল, দুই দেশের এত সংখ্যক মানুষ একে অপরকে বিয়ে করেছেন। এবং ভারতেই পাকাপাকি থেকে গিয়েছেন, সেটা কেন গোপন থাকলো? তাহলে কী রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির নজরদারির অভাব রয়েছে?
বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানি নাগরিকদের সাথে বিবাহিত মহিলাদের সংখ্যা ৮৩,০০০ থেকে এক লক্ষেরও বেশি। যার মধ্যে চমকে দেওয়ার মতো সংখ্যা পাঞ্জাব, কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র এমনকি দিল্লি থেকেও আসছে। এই ঘটনা বেশ কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল। যেমন, আইনি ফাঁকফোকরের মাধ্যমে পাকিস্তানে বিবাহিত এই মহিলাদের চাহিদা অনুসারে কাজে লাগানো হচ্ছে কিনা। আবার পাকিস্তানি নাগরিকদের সাথে বিবাহিত থাকাকালীন কীভাবে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব – এমনকি আধার কার্ড তৈরি করে কেন তাঁদের থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল? তারা কি ভারত সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন? আর সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটা হল, পাকিস্তানি নাগরিকদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িত এই বিপুল সংখ্যক মহিলা কি ভারতে সুসংহত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সমর্থক, যা পাকিস্তানের সামরিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পিত চক্রান্ত।
অপরদিকে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি-এনসিআর কর্তৃপক্ষ অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই তথ্যগুলিও অত্যন্ত চমকপ্রদ। বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গারা পশ্চিমবঙ্গের কাঁটাতার বিহীন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আধার, ভোটার ও প্যানকার্ডের মতো ভারতীয় প্রমাণপত্র জোগাড় করে ফেলেছে। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা বড় হুমকি। এঁদের অনেকেই সরাসরি জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্য হতে পারে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা তথা এনআইএ দাবি করছে যে পাথর ছোঁড়া, দাঙ্গা বাঁধানো এবং অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপে অনেক অবৈধ অভিবাসীর জড়িত থাকার বেশ কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে। ফলে, ভারতীয় নাগরিকদের সবচেয়ে আগে সচেতন হতে হবে, তারপর পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে শিক্ষা দেওয়ার প্রশ্ন আসবে।











Discussion about this post