পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম। এখানকার সন্দ্বীপ এলাকার মাটি কাঁপল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগানে। যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হতে চাইছে। যা করতে চেয়েছিলেন এক দল বাংলাদেশি নাগরিক, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে সেই পূর্ব পাকিস্তানেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। আর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পরই এই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি চরম সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও শেখ হাসিনার শাসনামলেই তাঁরা নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করেছিল। এবার তাঁরা ডানা মেলতে শুরু করেছে। রবিবার চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কোরান আবৃত্তির এক অনুষ্ঠানে ‘পাকিস্তান-পাকিস্তান, জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে উদীপ্ত করতে দেখা গিয়েছে এক বক্তাকে। সমবেত জনতাও পাল্টা স্লোগানে সাড়া দিয়ে জানান দিল, বাংলাদেশে নয়, তারা যেন পাকিস্তানে বসে রয়েছে।
ভারত বরাবরই চিন্তায় ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে। গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যেউত্থানের পর হাসিনার পতন এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের প্রবেশ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছে। আর এটা হয়েছে মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে।
এই মেটিকুলাস ডিজাইন আজকের নয়, যা করা হয়েছিল শেখ হাসিনার আমলেই। বাংলাদেশের পাকপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়তে ইসলামী পাকিস্তানী সেনা ও আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগসাজস রেখে বাংলাদেশের রাজনীতি উত্তাল করেছিল। তাঁরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুব নেতৃত্বকে সামনে রেখেই এই কাজ করেছিল। আজ পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে রূপনান্তরিত করার প্রক্রিয়া আজও চলমান। গত মাসের শেষ দিন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মাহফিলের মাঠে ‘পাকিস্তান পাকিস্তান, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিয়েছেন এক ইসলামিক বক্তা। তাতেই সাড়া দিয়েছেন সেখানে উপস্থিত অসংখ্য জনতা। মাত্র ২০ সেকেন্ডের সেই স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়। এরপরই নেটিজনদের মধ্যে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মজার বিষয় হল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বর্ষপূর্তি আর কয়েকদিন পরেই। যে দিন ভারতের সহযোগিতায় পাকিস্তানের অকথ্য অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠার ইতিহাসের সাক্ষী।
আদৌ আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের জয়োত্সব পালন করা হবে কিনা সন্দেহ, তবে ভারতবর্ষ এই দিনটি মহা সমারহে পালন করে প্রতি বছর। পাকিস্তান সেনার নির্মম অত্যাচার থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বলিদান, কয়েক লক্ষ নারী ও কিশোরীর সম্মান ও প্রাণের দায় যাদের, তাঁরাই আজ বাংলাদেশের ক্ষমতায়। তাঁরাই আজ বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে রূপান্তরিত করতে চাইছে। তাঁদের সব রকম সহযোগিতা করছে ইউনূস প্রশসান। তবে চট্টগ্রামে যেভাবে স্লোগান উঠল, পাকিস্তান জিন্দাবাদের, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট, জঙ্গিদের আনাগোনাও বাড়ছে ভারত সীমান্তের কাছে। জানা যাচ্ছে, গত ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সোয়াতুল কুরান নামে একটি মুসলিম কট্টরপন্থী সংগঠন। একাধিক দেশের কট্টরপন্থীরাও উপস্থিত ছিল ওই কনফারেন্সে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানেরও কয়েকজন ধর্ম প্রচারক। আর তাঁদের মধ্যে একজন মঞ্চে বক্তৃতা দিতে উঠতেই সঞ্চালক তাঁকে খুশি করতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে। সেখানে উপস্থিত দর্শকরাও পাল্টা পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে প্রত্যুত্তর দিলেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে গতকাল অনুষ্ঠিত কোরআন তিলাওয়াত সম্মেলনের এক বক্তা এমন স্লোগান দেয়। দর্শকদের একজন সেটির ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছেন।
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, সেটা হল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং এক শ্রেণির গোষ্ঠী ক্রমশ পাকিস্তানের কাছে নিজেদের আত্মসমর্পণ করছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সেনা এবং গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যে দাপাদাপি চলছে এবং পাক সমর্থিত জঙ্গিদের গতিবিধি বেড়েছে তা কিন্তু মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত। নয়া দিল্লির দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় যেভাবে ভারতবিরোধী প্রচারণা চলছে, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকার এটা নিয়ে আলাদা কোনও পরিকল্পনা করছে। যা মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য মোটেই সুখকর হবে না।












Discussion about this post