বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি চিনা প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়ে একটি স্কুল ভবনে। স্কুল চলাকালীন এই দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যায় স্কুল পড়ুয়া ও শিক্ষক বেশি। তবে ওই প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলটেরও মৃত্যু হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণে বাংলাদেশ বায়ুসেনার ওই প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়ল সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে ঢাকা জুড়ে এখন একটাই আলোচনা, সেটা হল অন্তরবর্তীকালীন সরকারের চরম অব্যবস্থা। দুর্ঘটনার ২৪ ঘন্টা হতে চলল এখনও নিখোঁজ বহু। কেউ খুঁজছেন তাঁদের ছোট্ট সন্তানকে, কেউ আবার খুঁজছেন পড়ুয়াকে নিতে আসা পরিজনকে। ইউনূস সরকার এখনও কন্ট্রোল রুম খুলতে পারেনি। ঢাকার একাধিক হাসপাতালে আহতyদের চিকিৎসা চলছে। কে কোথায় চিকিৎসাধীন সেটাও বলতে পারছেন না কেউ! চারিদিকে স্বজন হারানোর কান্না। একদল মানুষ সোমবার রাতভর হন্যে হয়ে ছুটেছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও সঠিক তথ্য পাননি। ফলে বাংলাদেশ সরকারের চূড়ান্ত অববস্থা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
অন্যদিকে প্রশিক্ষণের সব ধাপ শেষে তৌকির ইসলাম প্রথমবারের মতো একা বিমান চালাবেন এই খবরে পরিবারের সদস্যরা সোমবার সকাল থেকেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর সব শেষ। যে বিমান ঢাকার স্কুলে ভেঙে পড়েছে, সেটির পাইলট ছিলেন তৌকির ইসলাম। তাঁর যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনই যে স্কুলের উপর বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখানকার পড়ুয়াদের অনেকেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫-২৬ জনই খুদে পড়ুয়া।
মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চিকিৎসক মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৭৮ জন। এ পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
সায়েদুর রহমান আরও জানান, ঢাকার ৪টি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৮ জন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন শিশু এবং একজন পাইলট ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ছয়টি মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। তাদের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন ২৮ জন। প্রিয়জনদের দাবি, কে কোথায় ভর্তি সেটাই জানতে পারছেন না তাঁরা। কোথা থেকে খবরাখবর পাবেন সেটাও জানতে পারছেন না। কিন্তু এই দাবি উড়িয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, ভর্তি ব্যক্তিদের কে কোথায় আছে, তা পাবলিক ডোমেইনে আছে। যাঁরা এখনো তাঁদের স্বজনের খোঁজ পাননি, তাঁদের সেখান থেকে দেখে নিতে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন দ্রুততার সঙ্গে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা গেল না? কেন কন্ট্রোল রুমের নম্বর জারি করা হল না? অন্যদিকে যে যে হাসপাতালে আহত ও দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে সেখানে খুব কড়াকড়ি করছে সেনাবাহিনী। ফলে আত্মীয় পরিজনরা হয়রান হচ্ছেন হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ঢাকায়। মুহাম্মদ ইউনূস শোক প্রকাশ করেই দায় সেরেছেন। অথচ বিপর্যয় মোকাবিলায় কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলেই দাবি উঠছে।a












Discussion about this post