বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে নানা কথা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। রাষ্ট্রপতিকে হেনস্থা করা, বঙ্গভবন ঘেরাও করা, নানা খবর চাউর হয়েছে। এমনকি বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কারণ গত প্রায় ১১ মাসে কয়েকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া তাকে দেখা যায়নি। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গ নিয়ে যে মেঘ জমেছিল, সেটা কেটে গিয়েছে। তবে কি ইউনূসের শেষের শুরু?
আস্ত্রজাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় কিছু প্রতিষ্ঠা দিবস ছাড়া বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতিকে কেউ বের হতে দেখেনি। এমনকি ঈদের নামাজেও শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে বের হতে দেওয়া হয়নি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, যেটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান যে এখনও দেশের রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য রেখেছেন, সেটার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল।
এছাড়াও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই হিসাবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে দেখা যায়নি। এখানে অনেকে বলছেন, তবে কি জনগণ কর্তৃক রাষ্ট্রপতি সুরক্ষিত আর প্রধান উপদেষ্টা অরক্ষিত? গত কয়েক মাসে দেখা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে প্রায় এক ঘরে রাখা হয়েছিল। এমনকি রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং নেই। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নেই। এমনকি তিনি যে সেনানিবাসে রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, সেটা জানা গিয়েছে সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ থেকে। তবে সে যাই হোক। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনানিবাসে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হচ্ছে, সোমবার মহামান্য রাষ্ট্রপতি পিজিআরের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশে গঠিত হয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বা পিজিআর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যদের সর্বদা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। ওইদিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর। জানান হয়, ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন সোমবার পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং পিজিআর কমান্ডার। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর সিজিএস, পিএসও এএফডি, সেনাবাহিনীর কিউএমজি, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ও সংবিধান নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তাতে আপাতত এখন নির্মূল হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মহম্মদ ইউনূসের মানুষের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা কমছে সেটা পরিষ্কার।












Discussion about this post