বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় হচ্ছে বাংলাদেশের রাজ্য রাজনীতি।শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ইউনূস তাকে অপসারণের জন্য তিনবার অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তিনবারই ব্যর্থ হয়েছিলেন।ইউনূস নিজেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদ দখল করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দৃঢ়ভাবে ব্যর্থ করে দিয়েছি। শাহাবুদ্দিনের এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইউনূস এবং তার সরকার তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশের অতি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ‘কালের কণ্ঠে’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে শাহাবুদ্দিন প্রকাশ করে জানিয়েছেন-আমাকে অপসারণের প্রথম প্রচেষ্টা ২০২৪ সালের অক্টোবরে করা হয়েছিল। ইউনূস বাংলাদেশে কোনও সাংবিধানিক কাঠামো চাননি। আমি সকল দলের সাথে যোগাযোগ করেছি। এরপর, আমি পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বলেছিলাম, ‘আমাকে এখানেই খুন করুন।
শাহাবুদ্দিন আরও জানিয়েছেন, পরবর্তীকালে বিচারকদের মাধ্যমে আমাকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আমি সেই পরিকল্পনাও ব্যর্থ করে দিয়েছিলাম। অবশেষে, তারা সেনাপ্রধানের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু তিনিও আমাকে অপসারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরে, ইউনূস শান্ত হন।রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের মতে, যখনই কোনও নেতা বিদেশ থেকে ফিরে আসেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে সম্পূর্ণ তথ্য দেন। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য, তা সে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা যাই হোক না কেন। ইউনূস এই ঐতিহ্য এবং শাসন ভেঙেছেন। শাহাবুদ্দিন বলেছেন যে তিনি বিদেশে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আমাকে অবহিত করেননি। ইউনূস কখনও আমার সাথে দেখা করতে আসেননি। তিনি আমাকে বোঝা বলে মনে করতেন।
তিনি আরও বলেন-একবার, যখন আমি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করি, তখন আমার অফিস থেকে প্রেস বিভাগ বিলুপ্ত করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি কখনও ঘটেনি।
সম্প্রতি, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে-তাকে এ বিষয়ে অবহিতও করা হয়নি। এই চুক্তি তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেছি, কিন্তু সরকারের ভেতরে আমাকে গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি কাতার এবং কসোভো সফর করতে চেয়েছিলাম। দুই দেশ থেকেই আমন্ত্রণপত্র পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু আমাকে চিঠিও দেওয়া হয়নি।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আমাকে কারও সাথে কথা বলার বা দেখা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আমার চিঠির উত্তর দেওয়া হয়নি। ইউনূস বাংলাদেশে তাঁর ইচ্ছামতো সরকার পরিচালনা করছিলেন। আমি যদি রাষ্ট্রপতি না হতাম, তাহলে তারা এখন নির্বাচনও করত না।”বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন যে, ইউনূস প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বজায় রাখেননি বা বিদেশ সফর, চুক্তি এবং নীতিগত পদক্ষেপ-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেননি। তিনি দাবি করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছিল।রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছেন যে- মহম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক বিধানগুলি অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, -সংবিধানে বলা হয়েছে যে যখনই তিনি বিদেশ সফরে যান, তখন তাঁকে ফিরে আসার পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং আলোচনা এবং ফলাফল সম্পর্কে আমাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। তিনি অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ১৪ থেকে ১৫বার বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন কিন্তু একবারও আমাকে অবহিত করেননি।রাষ্ট্রপতি আরও দাবি করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত গোপন বাণিজ্য চুক্তি-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলি সম্পর্কে তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। শাহাবুদ্দিন সংবাদপত্র’কে বলেছেন-আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এই ধরনের রাষ্ট্রীয় চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে জানানো উচিত। এটা একটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি আমাকে মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে অবহিত করেননি।
ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতি পদকে এড়িয়ে যাওয়া বা খাটো করার অভিযোগ তুলেছেন শাহাবুদ্দিন। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরেও ইউনূস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে যান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলেন-আমিই ছিলাম সেই প্রক্রিয়ার উৎস যার মাধ্যমে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হয়েছিলেন, তবুও তিনি কখনও আমার সঙ্গে সমন্বয় করেননি। তিনি একবারও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি এবং আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সৌজন্য সাক্ষাতের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বঙ্গভবনের প্রেস কার্যক্রম ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যানান-তাঁরা তিনজন কর্মকর্তা, প্রেস সচিব, উপ-প্রেস সচিব এবং সহকারী প্রেস সচিবকে জোর করে অপসারণ করে। এমনকী ৩০ বছর ধরে এখানে কাজ করা আলোকচিত্রীদেরও বাতিল করা হয়।
শাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণের জন্য বারবার রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। রাষ্ট্রপতির কথায়, একজন উপদেষ্টা বিচারকের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি উপরে আছেন এবং তিনি অবৈধভাবে এই পদ গ্রহণ করতে পারেন না। অর্থাৎ মহম্মদ ইউনূস যে বাংলাদেশের প্রদানের কুর্সিতে বসতে চেয়েছিলেন তা স্পষ্ট।শাহাবুদ্দিন, বিরোধী বিএনপি নেতাদের এবং সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে অস্থির সময়কালে তাঁকে সমর্থন করার জন্য কৃতিত্ব দেন।
বিস্ফোরক রাষ্ট্রপতির খুব স্পষ্ট কথা তিনি অনেক সহ্য করেছেন আর সহ্য করবেন না বাংলাদেশের বর্তমানে নতুন সরকার হয়েছে তাই সেই ভরসায় তিনি ইউনূসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনে রনংদেহি মূর্তি ধারণ করেছেন।












Discussion about this post