১০৩ দিন পর বঙ্গভবন থেকে বেরোলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এবং এক বছর নয় দিন পর কোনও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন তিনি। ইউনূসের নেতৃত্বে চারটি অনুষ্ঠান ছাড়া বঙ্গভবনের চার দেওয়ালের মাঝেই আটকে ছিল রাষ্ট্রপতির। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার পর এই প্রথম তিনি সেনানিবাসে গিয়ে বক্তব্য রাখলেন। এটা এমন একটা সময় ঘটল, যখন মাঝে মধ্যেই রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণের রব ওঠে। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ইস্যুতে
দ্বন্দ্ব চরমে ইউনূস সেনাপ্রধানের। মনে করছেন কূটনীতিবিদরা। তবে কি
আড়াআড়ি বিভক্ত বঙ্গভবন-যমুনা?
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কোনও প্রেস উইং নেই। তিনি কোনও বিষয়ের মন্তব্য করেন না। এক্ষেত্রে অনেকে বলে থাকেন, তাকে মন্তব্য করতে দেওয়া হয় না। এমনকি তাকে নাকি গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে খবর। কিন্তু এদিন দেখা গেল অন্য ছবি। তিনি সেনানিবাসে গেলেন।
সোমবার পিজিআরের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশে গঠিত হয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বা পিজিআর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যদের সর্বদা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। ঐদিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর।
এই বিজ্ঞপ্তিতে, ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন সোমবার পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং পিজিআর কমান্ডার। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর সিজিএস, পিএসও এএফডি, সেনাবাহিনীর কিউএমজি, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি পিজিআরের কোয়ার্টার গার্ড পরিদর্শন শেষে বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর পাশাপাশি তিনি এই রেজিমেন্টের অফিসার ও জেসিওদের সঙ্গে বাক্যালাপ করেন। এরপর তিনি শহীদ ক্যাপ্টেন হাফিজ হলে পিজিআরে কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের উদ্দেশে দরবারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই রাষ্ট্রপতি পিজিআরের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সবাইকে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
শাহাবুদ্দিন বলেন, একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর অংশ হিসাবে সমসাময়িক বাস্তবতার পাশাপাশি অতীত ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহ থেকেও পিজিআরকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে দেখা যায়নি। ফলে কেন তিনি যাননি, সেটার কোনও কথাও জানা যায়নি। তবে এটা পরিষ্কার, যমুনা এবং বঙ্গভবনের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে সেনানিবাস চেয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই রয়েছে, সেটা পরিষ্কার হল। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post