বিশ্বের বিভিন্ন তাবড় তাবড় দেশের হুশিয়ারীকে উপেক্ষা করে, ভারতের পরীক্ষিত বন্ধু হিসাবে পরিচিত রাশিয়াকে ভারতে আমন্ত্রন জানাল নয়াদিল্লী। আর রাশিয়া সেই আমন্ত্রনকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, যেটি হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বরের মাঝামাঝি, পুতিন সেটিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই। এবং সেটি হচ্ছে আজ। এটাকে কি বলব, ভারতের আমন্ত্রন রক্ষায় উদগ্রীব রাশিয়া, নাকি মোদির ঘরে পুতিন। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আয়ারাম গয়ারামের মত নয়। ভারতে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, ভারত রাশিয়া সম্পর্কে তার কোন প্রভাব পড়ে না। তবে নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। মোদি পুতিনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সাধারণত বিদেশের কোন রাষ্ট্রনায়ক এলে, রাষ্ট্রপতি ভবনেই ডিনার পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মোদি-পুতিনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্য রকম। তিনি ডিনার করবেন প্রিয় বন্ধু মোদিজির বাড়ীতে।সঙ্গে একান্তে আলাপ পর্বটিও হয়ে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারত কাছাকাছি হওয়াটা খুবই জরুরি ছিল, কারণ কোন দেশ কখন কোন স্বার্থে ভারতের বিরুদ্ধে চলে যায়, তা বোঝা মুশকিল। কিন্তু রাশিয়া সবসময় ভারতের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর পুতিন ভারতে পা রখার আগেই, ভারতের শত্রুদের জন্য বার্তা ভারতের দিকে কু-নজর দিলে, না থাকবে নজর, না থাকবে দেশ। আর এই বার্তাটি আসিফ মুনিরের সাথে মহম্মদ ইউনূসের জন্যও। মজার বিষয় পুতিনের ভারত সফরে দেশে বিদেশে অনেকরই এত ঝাল লেগেছে যে, তারা জল খাবে, না সমালোচনা করবেন বুঝতে পাচ্ছেন না।
এখন দেশের অনেক নেতাইবিপদে পড়েছন, যারা মোদিজিকে আমেরিকার বাধ্য বলে দাবী করেতেন। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে, ভারত আমেরিকার চাপে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করতেন, তারা এখন কি ব্যাক্ষা দেবেন তারাই জানেন।। এখন কি তারা বলবেন আমেরিকার অনুমতি নিয়েই পুতিনকে ভারত সফরে আমন্ত্রন করা হয়েছে। ফলে বিরোধীরা এখন অন্য অজুহাত খুঁজতে বাধ্য। এতো গেল দেশের কথা এবার আসি ইউরোপ আমেরিাকা বিশেষ করে পাকিস্তানের কথায়। যে কোন কারণেই আমেরিকা এখন পর্যন্ত খুব একটা বিরোধ দেখায় নি, কারণ আমেরিকা বুঝেছে ভারতকে কোন প্রতিবন্ধকতা দিয়ে থামানো যাবে না। ভারত রাশিয়ার সম্পর্ক কোন কূটনীতি দিয়ে বিশ্লেষন করা যাবে না, আবার কোন কূটনীতি রাজনীতি দিয়ে তাকে ভাঙাও যাবে না। তাই তারা ভারত রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে বিশেষ একটা মুখ খোলেনা। এবার পাকিস্তানের আগে আসি ইউরোপের কথায়। ইউরোপের তিন দেশ মূলত বিরোধীতা করেছে পুতিনের ভারত আসা নিয়ে, কেন করছে তা বোঝার আগে, জেনে নিই ভারতের সঙ্গে ঐ তিন দেশের সম্পর্ক কেমন। প্রথম বিরোধী ইউকে, ইউকের সাথে ভারতের ট্রেড ড্রিল আছে নতুন করে কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে ভারত আমদানী রপ্তানি নিয়ে নতুন নতুন চুক্তি হয়েছে। এর পর আসি ফ্রান্সের কথায়। এই মহুর্তে ফ্রান্সের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক খুব ভালো, ফ্রান্সের থেকে রাফেল, মিরাজ সহ আরও সামরিক সরঞ্জাম কেনার ড্রিল হয়ে রয়েছে। তাছাড়া ফ্রান্স এমন একটি দেশ, ভারতের পরমাণু পরীক্ষার সময় বিশ্বের বহু দেশ ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপালেও ফ্রান্স তা করেনি।
এর পর আসি জার্মানির কথায়, অনেকেই হয়তো জানে না, জার্মানির সঙ্গে ভারতের সত্তর হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে সাবমেরিন বানানোর জন্য, যেটি ভারতের মাটিতেই তৈরী হবে। কিন্তু কোম্পানি হচ্ছে থাইসন গ্রুপ, যেটি একটি জার্মান কোম্পানি। এবার প্রশ্ন হল আমেরিকা চুপচুপ থাকলেও এই দেশগুলি কেন পুতিনের উপর এত ক্ষেপা। কারণ হল ন্যাটো। এই ন্যাটো হল ইউরোপের ছাতার মত। সেই ছাতার কাপড় বাদে আর সবই হল আমেরিকার। আর আমেরিকা পুতিনের সামনে স্যারেন্ডার করে দিয়ে, ন্যাটোকে বলেছে তোমরা ন্যাটোতে বিনিয়োগ বাড়াও, ন্যাটোকে যখন প্রয়োজন তোমাদের, তোমরা বুঝ, আমেরিকা কেন টাকা ঢালতে যাবে। ফলে ইউরোপ বুঝেছে ইউক্রেন আর বেশী দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না। ইউক্রেনের পর রাশিয়ার সামনে থাকছে ইউরোপ। ফলে তারা এখন রাশিয়াকে থামাতে ভারতকে ব্যবহার করতে চাইছে। কিন্তু ভারত এখন সিদ্ধান্ত নেবে অন্য দেশের ইশারায় বা অন্য দেশের স্বার্থে নয়, ভারত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের জন্য।
আর পাকিস্তান বর্তমানে ভারতের আক্রমন রুখতেই ব্যর্থ। ভারত রাশিয়ার আক্রমন প্রতিহত করবে কি করে। তাহলে তাদের আবার আর একটা ৭১ এর জন্য প্রস্তুত হতে হবে।












Discussion about this post