এক বছর হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময় অডিও বার্তার মাধ্যমে বলেছেন, বাংলাদেশে ফিরবেন। এবং যত দ্রুত তিনি দেশে ফিরবেন। এমনকি তিনি এটাও বলেছেন, বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন। তিনি দেশে ফেরার জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর। এমনকি গোপালগঞ্জের ঘটনায় তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি নাকি অজিত দোভালের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভারত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে পারবে না। এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাহলে দেশে ফেরার কথা কেন বলা হচ্ছে? কেন বলা হচ্ছে সেপ্টাম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা? এর পিছনে রয়েছে অনেকগুলি কারণ। এমনকি এটাও বলে হচ্ছে, তবে কি মিলে গেল সমীকরণ? হাসিনাকে ফেরাতে এক সুরে চিন, রাশিয়া, ভারত?
আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা আন্তর্জাতিক কোনও ইস্যু, তা পরিচালিত হয় পরাশক্তির দ্বারা। বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক জোটবন্দি। এবং বলা হচ্ছে, এই জোট বন্দী বিষয়টি তুঙ্গে উঠেছে সংসদীয় নির্বাচনকে ঘিরে। কিছুদিন আগেও নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু হঠাৎ তিনি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানালেন তিনি। এমনকি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে দিলেন। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত বদল কেন?
জানা যাচ্ছে, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের উপর। ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝে গিয়েছেন, মহম্মদ ইউনূসকে দিয়ে কোনও কাজ হবে না তার। ফলে ইউনূস এত সহজে পালাতেও পারবেন না। তাই মনে করা হচ্ছে, নির্বাচনের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়ে সরকার গঠন করে তারপর তিনি বিদায় নেবেন। এদিকে আমারিকা চাইছে, নতুন করে নির্বাচন করিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। অন্যদিকে চিন চায় না বাংলাদেশে নির্বাচন হোক। একই মনোভাব এনসিপি ও জামাতের। তাদের বক্তব্য, দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ফলে সব মিলিয়ে কোনও দিকে যেতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?
এদিকে শুরু হচ্ছে সাংঘাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশনের সামিট। সেখানে যাচ্ছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমনকি মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার সাইডলাইনে যে আলোচনা হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। মূল আলোচনা হতে পারে, কোনওভাবেই আমেরিকাকে বাংলাদেশে পা রাখতে দেওয়া যাবে না। এই এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে হবে। আর বিএনপিকে দূরে রাখতে গেলে তার প্রবল প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু মোটেই মেনে নেবে না বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলি। এমনকি মানবেন না সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও। কিন্তু ভারত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাবে। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post