আগামী বছরেই আসছে আরও এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স মোদি-পুতিন বৈঠকের পরেই সিদ্ধান্ত, প্রবল চাপে পাকিস্তান-বাংলাদেশ। ভারত-রাশিয়া বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে। রুশ প্রতিরক্ষা রফতানি সংস্থার শীর্ষকর্তা দিমিত্রি শুগায়েভ জানিয়েছন, ভারত ইতিমধ্যে এস ৪০০ ব্যবহার করেছে। নতুন সরবরাহের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, দুদফায় দিল্লির হাতে কিয়েভ তুলে দেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথম দফায় ২০২৬-য়ে। দ্বিতীয় দফায় ঠিক তার পরের বছর। এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে ২০১৮ সালে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল মস্কোর। দেওয়ার কথা ছিল পাঁচটি ইউনিট। সরবরাহে দেরি হওয়ায় কিছুটা হলেও অসন্তুষ্ট ছিল দিল্লি। গত বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁর রুশ সফরে সে দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধির সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ –দিল্লিসাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি ওঠে। মস্কোর তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে। নিয়ে। রুশ প্রতিরক্ষা রফতানি সংস্থার শীর্ষকর্তা শুগায়েভ সে দেশের সংবাদসংস্থা তাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতে হাতে রয়েছে। ইতিমধ্যে দিল্লির হাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি যে কটি রয়েছে, সেগুলিও যত দ্রুত সম্ভব দিল্লির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
রাশিরার এই সিদ্ধান্তে প্রবল চাপে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের থেকেও তুলনামূলকভাবে বেশি চাপে পাকিস্তান। সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুর-য়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দিল্লি। ভূমি থেকে আকাশ এই ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলা করতে গিয়ে পাকিস্তানকে ল্যাজে গোবরে হতে হয়েছিল। নতুন করে রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তে প্রবল চাপে পাকিস্তান।
ক্ষেপণাস্ত্র ‘উপহার’ দেওয়ার পাশাপাশি কিয়েভ দিল্লিকে কম দামে তেল বিক্রি করতে রাজি হয়েছে। আগে ব্যারেল প্রতি অশোধিত তেলের দাম ছিল ৪ ডলার। কিয়েভ সেটা কমিয়ে ৩ ডলার করেছে। এই বছর সেপ্টম্বের থেকেই নতুন হারে ভারতকে তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো।
মোদি-পুতিনের হার্দিক বৈঠকের প্রেক্ষিতে রাশিয়া যে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন নমো। নমো বলেন, কঠিক সময়ে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি থেকেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর লিমুজিন গাড়িতে চড়ান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। সমাজমাধ্যমে সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানির তেল রফতানিকারক দেশ রাশিয়া। তাদের অশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চিন ও ভারত। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ট্রাম্প দিল্লির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার প্রশ্ন ওঠে না। যদিও তাঁর দফতরের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মধ্য দিয়ে মিটিয়ে নেওয়া হবে। হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, ‘ইউক্রেনে শান্তির রাস্তা দিল্লি দিয়ে যায়।’ তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতে কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করছে। আর দিল্লি সেই চাপ থেকে মুক্ত করতে বিকল্প রাস্তা খুঁজে চলেছে। সেই বিকল্প রাস্তার একটি হল রাশিয়ার সঙ্গে নতুন করে সুমধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা। দ্বিতীয় হল ‘শত্রুর শত্রু আমার মিত্র’ ফর্মুলা মেনে চিনের সঙ্গে কুস্তির বদলে দোস্তি করা। তাই, শুধু পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নয়, কূটনৈতিক দিক থেকে দেখলে দেখা যাবে, আমেরিকাও বেশ চাপে।












Discussion about this post