কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর ভারতের নিশানায় পাকিস্তান। ফলে যত দিন এগিয়েছে, ততই ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। দুই দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনামূলক। ইতিমধ্যে একের পর এক পদক্ষেপ করেছে নয়াদিল্লি। এমনকি কূটনৈতিক স্তরে স্ট্রাইক ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদের উপর। আর এই উত্তেজক আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস। এরপর দুই দেশের তরফ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কি কথা হয়েছে সেটা জানা যায়নি। অন্যদিকে জাতিসংঘ দুই রাষ্ট্রকে ফোন করার কথা বললেও, কি নিয়ে আলোচনা বা কথা হয়েছে, সেটা বলেনি। তবে জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরের পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন জাতি সংঘের প্রধান। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরের এই ঘটনায় ভারত যে পাকিস্তানের দিকেই নিশানা করছে সেটা স্পষ্ট জানে পাকিস্তান এবং জাতিসংঘ। এদিকে বিগত কয়েকদিনে জাতিসংঘের সঙ্গে ভারতের দূরত্ব যেমন বেড়েছে তেমন সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে।
কাশ্মীরের ঘটনার পর ভারতের পাশে রয়েছে বহু দেশ। এদিকে পাকিস্তানের পাশে চীন বা তুরস্ক ছাড়া কেউ নেই। আর সেই আবহে ভারত যেভাবে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে, মহড়া চালাচ্ছে, ইসলামবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ করছে। তাতে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট হতে হল জাতিসংঘকে। মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা
আর সেই আবহেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রীকে ফোন করেন জাতিসংঘের প্রধান। যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এই ফোন বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয় তার। শোনা যাচ্ছে, দাবি ছিল একটাই। এই মুহূর্তে যুদ্ধ চাইছে না জাতিসংঘ।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্স এ লেখেন জাতিসংঘের প্রধানের সঙ্গে কথা হল। আমি জানিয়েছি যে পাকিস্তান সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে। একই সঙ্গে ভারতের ভিত্তিহীন অভিযোগও খারিজ করেছি বলে জানান তিনি। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি চাই পাকিস্তান।
এরমধ্যেই বুধবার পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। সেখানে তিনি জানান, গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে ভারত। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যে কোনও মূল্যে রক্ষা করবে। পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেবে পাকিস্তান। তবে এখনও পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধের কথা ভারত বলেনি। তারপরও পাকিস্তান ভয় পাচ্ছে যুদ্ধের। কেন? আরও বেশি করে তাদের মনে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যখন ভারত নিরাপত্তা জোরদার করছে এবং একাধিক জায়গায় মহড়া চালাচ্ছে। এখন দেখার দুই দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।












Discussion about this post