মেলালেন তিনি মেলালেন। অথচ তিনি কিন্তু নেই। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে তিনি এখন একটা নাম মাত্র। কিন্তু তাঁর চিরবিদায় কিছুটা হলেও এক সুতোয় গেঁথে দিল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে।
কথা হচ্ছে জিয়াকে নিয়ে। আমরা সবাই জানি যে বিএনপিতে বেগম অধ্যায় শেষ। শুরু হয়েছে তারেক যুগ। দলের রিমোট এখন তারেক জিয়ার হাতে। আর দায়িত্ব পেলেন এমন একটা সময় যখন বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই এক সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে হবে গণভোট। আর এই দুই নিয়ে তদারকি সরকারের তরফে চলছে জোর প্রচার। ব্যস্ততা উত্তরপাড়াতেও। সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর বাহিনীকে বলেছেন, ভোটের দিন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোট-পূর্ববর্তী পর্বে আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনও অবনতি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও কোনও কোনও মহল থেকে এই ভোট না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারেক জিয়া তো রাখঢাক না করেই জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর আশঙ্কার কথা। ফলে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একদিকে যেমন দোলাচল চলছে, রাজনৈতিক দলগুলিও ব্যস্ত।
প্রশ্ন, জিয়ার মৃত্যু কীভাবে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগকে মিলিয়ে দিল। জিয়ার মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছিলেন হাসিনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-য়ে হাসিনা জানান, I extend my deepest condolences on the passing of BNP Chairperson and former Prime Minister Begum Khaleda Zia. As the first woman Prime Minister of Bangladesh, and for her role in the struggle to establish democracy, her contributions to the nation were significant and will be remembered. Her passing represents a profound loss for Bangladesh’s political life and for the leadership of the Bangladesh Nationalist Party. I pray for the eternal peace and forgiveness of Begum Khaleda Zia’s soul. I convey my sincere sympathies to her son, Tarique Rahman, and to the members of her bereaved family. I also extend my condolences to the wider BNP family. I hope that Almighty Allah grants them patience, strength, and comfort to endure this difficult time.
আসলে রাজনীতিতে চিরকালের বন্ধু বা চিরকালের শত্রু বলে কিছু হয় না। শত্রুর শত্রু যে কোনও সময় একে অপরের মিত্র হয়ে উঠতে পারে। গোটা বিশ্বে এর অজস্র নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। নতুন করে সেই চিত্র দেখা গেল বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বিএনপি-র সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক কেমন, তা আর নতুন করে বলার দরকার হয় না। কিন্তু জামাতের শফিকুরকে ঠেকাতে তারা গোপনে সমঝোতা করেছে। শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা ১৫ আসনে। এই আসন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একাধিক আলোচনার জন্ম দেয়। ঢাকা-১৫ আসন থেকে আরও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আলমগীর ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এসএম ফজলুল হক, গণফোরামের একেএম শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, স্বতন্ত্র থেকে মো. তানজিল ইসলাম, খান শোয়েব আমান উল্লাহ।
অতীতে এই কেন্দ্রে লড়াই ছিল জামাত বনাম আওয়ামী লীগের। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির হাওয়া ঘুরে গিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে জামাত নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ নির্বাচনে কোনও দল যদি ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে জামাতের হাত ধরা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। ঢাকা ১৫ আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। সেই বিএনপির দূর্গে জামাত শফিকুরকে প্রার্থী করেছে। জামাত মূলত কট্টরপন্থী ইসলামি দল হলেও শফিকুর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা বাকিদের তুলনায় অনেক বেশি। জামাতকে যখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সেই বছর ধানের শিস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই শফিকুর। এখন সেই শফিকুর এখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনৈতিক শত্রু হয়ে উঠেছেন। সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে থাকা দুটি রাজনৈতিকদলের গোপনে সমঝোতার কারণ ভোট কাটাকুটি বন্ধ করা। এই ভোটে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে, তাদের ভোট পাওয়ার জন্য বিএনপি যেমন মরীয়া হয়ে উঠেছে, সমান মরীয়া জামাতও।












Discussion about this post