সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেলে যাওয়ার হওয়ার কথা সেটাই হয়েছে।
গত জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে রীতিমতো বাড়াবাড়ি শুরু করে দেয়। পাকিস্তানের মাখামাখি তো বেড়েছে। হাসিনার আমলে জেলে থাকা কুখ্যাত জঙ্গিদের জন্য টাটকা বাতাসের স্পর্শসুখ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আর তাদের যা করার সেটা তারা করে এসেছে। সাউথব্লক থেকে ঢাকাকে বহুবার বলা হয়েছে, পদক্ষেপ করুন। পদক্ষেপ করা তো পরের কথা। উল্টে ভারতকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য যা যা করার দরকার ঢাকার তরফে সেটা করা হয়েছে। এবার তার জন্য খলিলুরকে শেষবারের মতো সতর্ক করে দেওয়া হল। জানিয়ে দেওয়া হল, এবার যদি তারা এই ভারতকে অশান্ত করার কোনও চেষ্টা করে, তাহলে রাজনাথ সিংয়ের ভাষায় ঘুসকে মারেঙ্গে। সাউথব্লক এবার সেই ক্ষেত্রে প্রস্তুত করে রাখল।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দোহায় খলিলুরের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের চার আমলা বৈঠক করেন। এই চার আমলার মধ্যে একজন আবার এতটা বাঘা যে শুল্কযুদ্ধে আমেরিকাকে কী করে নাস্তানাবুদ করতে হয়, সেটা এই আমলাই শিখিয়ে দিয়েছিলেন। দোহার বৈঠকে তিনি ছিলেন। ছিলেন দুই জয় রয়ের অফিসার। আমেরিকার তরফ থেকে বৈঠকে ছিলেন দোহায় তাদের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। তুরস্কের তরফে ছিলেন তাদের বিদেশমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আমির। খলিলুরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সেক্রেটারি।
খলিলুরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী কাল অর্থাৎ বুধবারের মধ্যে সেখানে আইএসআই-য়ের যত ঠেক আছে, সব সরিয়ে ফেলতে হবে। রয়েছে তুরস্কের বেশ কয়েকজন। পাকিস্তানের ১৭ জন আইএসআই রয়েছে। আর তুরস্কের রয়েছে ১৭। এই ৫৪জনকে পাততাড়ি গোটানোর নির্দেশ দিতে হবে। বৈঠকে খলিলুর ভারতের প্রতিনিধিদের বলেন, গত নভেম্বের ড্রোন হামলা হয়েছে একাধিকবার। প্রথমে ২১ নভেম্বর। পরে ২৩ এবং ২৪ নভেম্বর। এবং সর্বেশেষ ২৬ নভেম্বর। ভারতীয় আমলা সেটা স্বীকার করে ড্রোন হামলায় কাদের মৃত্যু হয়েছে সেই তালিকায় খলিলুরের সামনে পেশ করা হয়। তালিকা অনুসারে, ড্রোন হামলায় কোনও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়নি। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এরা কোনও ভদ্রলোক নন। ১১ জনের মধ্যে তুরস্কের একজন, আইএসআইয়ের দুইজন। সন্ত্রাসী সংগঠন উলফা আইয়ের চারজন। লস্করের সাইবার সেল এবং জামায়াতের দুইজন করে মোট চারজন। এই তালিকায় পেয়ে কার্যত খলিলুর দরদর করে ঘামতে থাকেন। কার্যত থ হয়ে যান দোহায় আমেরিকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। তাঁর বুঝতে অসুবিধে হয়নি, যে ভারত পাকাপোক্ত প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিল যে খলিলুর যাঁদের ভদ্রলোক বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, খলিলুর এই তথ্য পাওয়ার পর আর কিছু মুখে বলার সাহস করেননি।
এদিকে, ভারতের তরফ থেকে যে কোনও সময় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হতে পারে আন্দাজ করে রংপুর সীমান্তের কাছে বাংলাদেশ দুই হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। আর ভারতের সেখানে মজুত রয়েছে ১২ হাজার সেনা। আসলে ভারতকে এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য করেছে বাংলাদেশ। দিল্লি যে আর ঢাকার বাড়াবাড়ি কোনও অবস্থাতেই মেনে নেবে না, দোহার এই বৈঠক থেকে সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।












Discussion about this post