শান্তা পাল নামে ২৮ বছর বয়সী এক মহিলা কে গ্রেফতার করেছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিস। যা ঘিরে হইচই পরে গিয়েছে গোটা কলকাতা জুড়ে। মঙ্গলবার বিকেলে বিক্রমগড়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই মহিলা কে গ্রেফতার করে পুলিস। ওই মহিলার থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারতীয় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড। একই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট। তিনি নাকি বাংলাদেশের মডেল অভিনেত্রী। শান্তা পালের কার্যকলাপ মনে করিয়ে দিচ্ছে জ্যোতি মালহোত্রার কথা। জ্যোতির বিরুদ্ধে পাকিস্তান গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল। শান্তা কি বাংলাদেশের জন্য ছিলেন? মহম্মদ ইউনূস বাহিনীর হয়ে কাজ করছেন তিনি? তার কার্যকলাপে এই সমস্ত প্রশ্নেরই উত্থাপন করছে। তবে ভারতের একশনে শুধু এই শান্তা পাল নয়, বিপদে পড়বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। মত ওয়াকিবহাল মহলের।
জানা যাচ্ছে, এই শান্তা পাল
ভারতে এসেছিলেন ২০২৩ সালে। সঙ্গীকে নিয়ে এখানেই থেকে যান বলে খবর। ভিসা, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ভারতে রয়ে গিয়েছেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে আসার। তার ভিসা, পাসপোর্ট অবৈধ, এদিকে তিনি দিনের পর দিন ট্যুর এন্ড ট্রাভেলসসের ব্যবসা করে অন্যদের সাহায্য করছেন। তিনি দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড়ে ভাড়া থাকতেন বলে খবর। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি ঠিকানার দুটি আধার কার্ড। কলকাতার এবং একটি বর্ধমানের। এমনকি বাংলাদেশের পাসপোর্টে উদ্ধার হয় তার থেকে। এছাড়াও তার থেকে উদ্ধার হয়েছে বাংলাদেশী এয়ারওয়েসের এমপ্লয়ী কার্ড। তার কাছে একাধিক সন্দেহভাজন নথি উদ্ধার হয়েছে। যেটা গোয়েন্দাদের চমকে দিয়েছে। দিনের পর দিন কিভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তিনি রয়ে গেলেন? এই প্রশ্নটাই উঠছে। তবে কি বাংলাদেশের হয়ে গুপ্তচরের কাজ করতেন তিনি? ঠিক যেমনটা জ্যোতি মালহোত্রা পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন? এমন নানা প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সমস্ত জট কাটানোর চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা। কোন উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতা বা একাধিক জায়গায় থাকতে শুরু করেছেন? তিনি নাকি উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জায়গাতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাহলে সেখানেও তার কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে ছিল কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের অনুমান, বাংলাদেশ থেকে সে বিদেশেও যেতে পারছিল না। তাই নিজেকে ভারতীয় পরিচয় দিয়ে কলকাতা থেকে পাসপোর্ট তৈরির ছক কষে এবং পার্ক স্ট্রিটের ওই ঠিকানায় দালালচক্রের হাত ধরে রেশন কার্ড তৈরি করে। অর্থাৎ তদন্তকারীরা যতই গভীরে ঢুকছে, ততই সন্দেহজনক তথ্য উঠে আসছে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই দেশে আসতে চাইছেন বহু বাংলাদেশী। এমনকি শান্তা পালের চ্যাট থেকে এমন বহু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। যখন অনুপ্রবেশকারী ইস্যু দুই দেশের সম্পর্ককে তলানিতে এসে ফেলেছে, সেখানে বাংলাদেশীরা শান্তা পালকে ধরে মেডিকেল ভিসা পাসপোর্ট বানিয়ে এই দেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ যেমন অশান্ত হয়ে উঠেছে, এবার বাংলা কেউ অশান্ত করার চেষ্টা করছে এই শান্তা পালের মত কয়েকটি সন্দেহভাজন বাংলাদেশী। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন সন্দেহজনক বাংলাদেশিরা বেআইনিভাবে বসবাস করছে কি করে? যদিও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, তদন্তের পর আরও অনেক কিছুই পরিস্কার হবে।












Discussion about this post