শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী, আট বারের নির্বাচিত সাংসদ, ৪৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরকম একটি প্রভাবশালী মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কত টাকা থাকতে পারে বলে আপনাদের অনুমান? কি ভাবছেন, কয়েকশো কোটি টাকা থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। গত বছরের ৫ আগস্ট এক সাজানো গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্ব চলে যায়। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তখন থেকেই শোনা যাচ্ছিল কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত শেখ হাসিনা। তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি কয়েকশো কোটি টাকা আছে। বাংলাদেশে একাধিক সম্পত্তি, জমি, বাড়ি, বাংলো রয়েছে। বিদেশেও তাঁর সম্পত্তির পরিমান বিপুল। শুধু তিনিই নন, তাঁর ছেলে ও মেয়ের নামেও কয়েকশো কোটির হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি রয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন বা দূদক গঠন করেছে। সেই কমিশন দিন-রাত আদাজল খেয়ে হিসেব মেলাতে ব্যস্ত, হাসিনা ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির খোঁজ করতে থাকেন। সব শেষে জানা গেল শেখ হাসিনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হিসেব নিকেশ। সবমিলিয়ে ৩ কোটি ৮৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯৫৮ টাকা।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার পরিজনদের মোট ৩১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছে ঢাকার একটি আদালত। যদিও এর আগে ওই আদালতের কাছে দূদক দাবি করেছিল হাসিনা পরিবারের মোট ১২৪টি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক প্রমুখ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দূদকের দাবি, এই সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৩৯৮ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। যা এখন ফ্রিজ করা হয়েছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে খুব বেশি অর্থ পায়নি দূদক। যে ৩৯৮ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে সেই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের মতো বহু সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা। ফলে ওই সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অর্থ মোটেই তাঁদের নয়। শুধুমাত্র ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকার জন্য তাঁদের নাম রয়েছে। যদিও দতারকি সরকার ওই সব ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। এতদিন শেখ হাসিনা এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি। এবার তিনিও সরব হলেন মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা দাবি করেন, তদন্ত করলে মুহাম্মদ ইউনূসের নামেই কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যাবে। তিনি নিজেই এরকম কয়েকটি উদাহরণ দিয়েছেন।
হাসিনা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করে জানান যে গ্রামীন ব্যাঙ্ক ও গ্রামীন টেলিকমের জন্য গর্ব করেন তিনি সেটা তাঁর তৈরিই নয়। এমনকি ট্রাস্টের নামে যে কয়েকশো কোটি টাকা ইউনূস বিদেশে পাচার করেছেন সেই দাবিও তোলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। সেই গ্রামীন ব্যাঙ্ক ও গ্রামীন টেলিকমের নামে ফিক্সড ডিপোজিটে হাজার হাজার কোটি টাকা কেন গচ্ছিত সেই প্রশ্নও তোলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এমনকি ইউনূস যে শ্রমিকদের পাওনা গায়েব করার দায়ে সাজাও পেয়েছেন সেটাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে যে প্রবল হাসিনা বিরোধী হাওয়া তোলার চেষ্টা করছিলেন ইউনূস এবং তাঁর বাহিনী, সেই হাওয়া এবার তাঁর দিকেই ঘুরিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। বলা যায়, ইউনূসের মুখোশ টেনে খুলে দিলেন তিনি।
Discussion about this post