একটা দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া যাক।
জিয়ার শেষকৃত্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির দূত হয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিলেন চাণক্য এস জয়শঙ্কর। তারেক যে ঘরে বসেছিলেন, সোজা সেই ঘরে চলে যান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদির শোকবার্তা। এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। দূত হিসেবে পাঠিয়ে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদন হোসেনকে পাঠিয়েছিলেন। পাঠিয়েছিলেন আসিফ নজরুলকে। অন্তর্বর্তী সরকার একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। বার্তাটি হল ইউনূস বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করতে রাজি। কিন্তু জয়শঙ্কর তাদের জানিয়ে দেন, তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করার সময় তাঁর নেই। এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে পদ্মাপার সাক্ষী ছিল ভারত-বিরোধী নানা ঘটনায়। যে দুটি ঘটনা সাউথব্লকের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে সেটা হল এক হাসনাত আবদুল্লার সেভেন সিস্টার্স বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি, দ্বিতীয় ঘটনাটি হল, কোনও প্রমাণ ছাড়াই হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে দেওয়া। তদারকি সরকার থেকে জোরের সঙ্গে দাবি করা হয়, যে হাদি যেহেতু একজন ভারত-বিদ্বেষী নেতা ছিলেন, তাই দিল্লি পরিকল্পনা করে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগের স্বপক্ষে তারা বাংলাদেশ কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি। এই অবস্থায় ভারত সৌজন্যের খাতিরেও তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে পারে না।
ভারতের ওপর বাংলাদেশের তীব্র আক্রোশের কারণ হাসিনার একের পর এক বক্তব্য আর দিল্লির চুপচাপ বসে সেটা উপভোগ করা। উল্লেখ করা যেতে পারে, জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দেওয়া প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস।তিনি আর্জি জানান, ভারত যেন হাসিনার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করে। মোদির জবাব ছিল, ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সেখানে সকলের বাক প্রকাশের অধিকার রয়েছে। হাসিনার ক্ষেত্রে তারা কখনও এই ধরনের পদক্ষেপ করতে পারে না। আর মোদির এই কডা় মনোভাবে চটে যান ইউনূস। আর ভোটের আগে হাসিনা দিল্লি থেকে যে অডিও বার্তা দিয়েছেন, তাতে ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টাদের মেজাজ আরও তিরিক্কি হয়ে উঠেছে। কেন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে দিল্লিশ্বর হাসিনাকে বাধা দিল না, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই অডিও সাক্ষাৎকার ভাইরাল। অডিও বার্তায় হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “ বাংলাদেশ আজ এক গভীর খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। তদারকি সরকার প্রধানকে তিনি কখনও “খুনি ফ্যাসিবাদি”, কখনও “সুদখোর ”, কখনও “ টাকা পাচারকারী” বলে মন্তব্য করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ এক বিশাল “জেলখানা, এক বধ্যভূমি, এক মৃত্যু উপত্যকায়” পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, যে ২০২৪ সালে অগাস্টের তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে।
ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর হাসিনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ভার্চুয়াল সভায় এই ধরনের বক্তৃতা করে এসেছেন। কিন্তু দিল্লির থেকে তিনি যে অডিও বার্তা দিলেন, সেটা যে আরও ক্ষুরধার, সেটা স্পষ্ট হচ্ছে বক্তৃতার শব্দমালায়। আর মুখ খুললেন এমন সময় যখন বাংলাদেশে যখন তরতর করে বইছে ভোটের হাওয়া। আর ভোটের আগে হাসিনা মুখ খোলায় মেজাজ হারিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস।












Discussion about this post