দীর্ঘ রাজনৈতিক ধকল, তার ওপর প্রবাসে আত্মগোপনের যন্ত্রনা। একমাত্র কাছের মানুষ বলতে মে ও জামাই। খুব কাছে, তবুও যেন দূরে! ছেলে প্রবাসী আমেরিকায়, সেই এক বিড়ম্বনা। অবশেষে ভাঙলো দশ মাসের একাকিত্ব, দেখা হল মা ও ছেলের। উপলক্ষ্যে ঈদ। ছেলেকে পরম যত্নে মোরগ পোলাও রেঁধে খাওয়ালেন। সে এক আবেকঘন মুহূর্ত। আমরা কথা বলছি শেখ হাসিনা ও তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় প্রসঙ্গে।
গত বছরের ৫ আগস্ট এক কাপড়ে দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা। তারপর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান নয়া দিল্লি। ব্যাস এটুকুই জানা, কিন্তু দিল্লির ঠিক কোথায় কেউ জানে না। কারণ ভারত সরকার হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে ঠিকই, তাঁর ঠিকানা প্রকাশ করেনি। দীর্ঘ দশ মাস অতিবাহিত, তাঁর সঙ্গে নাকি ভারত সরকারের দুই-একজন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়া করোও দেখা করা নিষেধ ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই নিয়ম শিথিল হয়েছে, কিন্তু গোপনীয়তা এখনও বজায় আছে। সেভাবেই অতি গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি এলেন হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সটান দেখা করলেন মায়ের সঙ্গে। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে এক সঙ্গীকে নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছন জয়। প্রবাসে গোপন আশ্রয়ে একমাত্র পুত্রকে সামনে পেয়ে বিহ্বল হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। অশ্রুসজল চোখে মাকে আঁকড়ে ধরেন জয়ও। শনিবার ছিল ইদ–উল–আজহা। তাই ছেলের পছন্দের মোরগ পোলাও নিজের হাতেই রাঁধেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিল মাছ, সব্জি, ডাল। ছেলে জয় চেটেপুটে খান। জানা গিয়েছে এটুকুই। ফলে মাতা-পুত্রের এই সাক্ষাৎ কি শুধুই ঈদের মোরগ পোলাও? নাকি অন্য কোনও পরিকল্পনা, সেটা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ওয়াজ়েদ কনসালটেন্সি ইনকর্পোরেট-এর কর্ণধার সজীব ওয়াজ়েদ জয়। বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। কিন্তু তাঁর নাগরিকত্ব ছিল বাংলাদেশেরই। মায়ের ক্ষমতাচ্যুতি, সরকারের পতন তারপরে সপরিবারে একাধিক মামলায় জড়ানো। সবমিলিয়ে মুহূর্তে তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। পাসপোর্ট বাতিল হয় হাসিনা ও তাঁর পুত্র জয়ের। ফলে সম্প্রতি খানিকটা বাধ্য হয়েই মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন হাসিনা পুত্র। আর মার্কিন পাসপোর্টে এটাই তাঁর প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। তাও এলেন ভারতে মায়ের সঙ্গে ঈদ পালন করতে। সজীব ওয়াজ়েদ জয় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব ছিলেন। ঘনঘন তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু আচমকাই তিনি নিষ্প্রভ হয়ে যান। এবার তাঁর দিল্লিতে আসা, মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তাৎপর্য বহন করে বৈকি। ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া তাঁর দিল্লি আসা এবং হাসিনার সঙ্গে দেখা করা অসম্ভব ছিল। ফলে ধরে নেওয়াই যায়, জয় ভারতে এসেছেন অনুমতি নিয়েই। ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি সবই জানে। তিনি এখনও ভারতে আছেন কিনা সেটা নিশ্চিন্ত নয়।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সজীব ওয়াজ়েদ জয় দিল্লিতে বিশেষ কাজেই এসেছিলেন। তাঁর ভারত আসার আগে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে আওয়ামী লীগের শাখাগুলিকে চাঙ্গা করার কথা ছিল। তবে তিনি লন্ডন হয়ে এসেছেন কিনা জানা যায়নি, তবে লন্ডনে মুহাম্মদ ইউনূসের হোটেলের সামনে যে ধরণের বিক্ষোভ হল, তাতে অনেক কিছুই আন্দাজ করে নেওয়া যায়। এও জানা যাচ্ছে, হাসিনা পুত্র ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও লন্ডনে বসে মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও দল হিসেবে এখনও নিষিদ্ধ নয়। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার এ হেন দাবির পর আওয়ামী নেতৃত্ব কিছুটা হলেও অক্সিজেন পাচ্ছে। ফলে মায়ের নির্দেশে তিনি সংগঠন চাঙ্গা করা ও আগামীদিনে বাংলাদেশে কিভাবে প্রবেশ করা যায় সেটা নিয়ে শলা পরামর্শ করছেন এটা ধরাই যায়। সবমিলিয়ে শুধু মোরগ পোলাও নয়, ভিতরে ভিতরে আরও অনেক কিছুই পাকছে।












Discussion about this post