শেখ হাসিনা দেশে ফেরা কি এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা! শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন আদৌ কি চান মোহাম্মদ ইউনুস? আর এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তিনি বা কি ভাবছেন? সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আরো বেশ কিছু শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু করল। এরপরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৪ শে জুনের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শেখ হাসিনা সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে মূলত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার মধ্যে যেমন রয়েছে গুম পুলিশের দ্বারা আক্রমণ গণহত্যা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল যদি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হয় তবে এই বিচার প্রক্রিয়া তাদের অনুপস্থিতিতেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সরাসরি জানানো হচ্ছে এর বিচার প্রক্রিয়াকে তারা প্রহসন বলে মনে করছে এবং তারা এটিকে বয়কট করছে। দেখা গিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এই বিচার প্রক্রিয়াকে বয়কটের দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শেখ হাসিনার সম্পর্কে বিবৃতি জারি করা হয়েছে এবং আসাদুজ্জামান কামালের সম্পর্কে জারি করা হয়েছে বিবৃতি। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তির পর নানা রকম জল্পনা সামনে আসছে। যেমন শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন সেটা সকলেই জানে যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের অবস্থান খুব একটা স্পষ্ট নয়, কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে শেখ হাসিনার বাড়ি ৩২ নম্বর ধানমন্ডির সুধাভবন সেখানে নোটিশ টাঙ্গানো হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের বাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে। কিন্তু শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে সকলেই অবগত থাকলেও অর্থাৎ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নেই জেনেও কেন শেখ হাসিনার বাড়ি সুতা ভবনে নোটিশ পাঠানো হলো? এটা সত্যি অত্যন্ত অবাক করা একটা ঘটনা। কারণ শেখ হাসিনাকে সে দেশের বিমান বাহিনীর বিমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতের অবস্থান করতে সাহায্য করেছিল তারপরও এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি সত্যিই প্রশ্ন তোলে।
উল্লেখ্য ভারতীয় অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সে গত বছর নভেম্বরে ভারত সরকারের কাছে নোট ভারবাল পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার জন্য ইন্টারপলের কাছে আবেদন জানিয়েছিল এই অন্তর্বর্তী সরকার সেই নভেম্বর মাসেই। এরপর কেটে গেল ৬ থেকে ৭ মাস তারপর দেখা গেলই আন্তর্জাতিক সংস্থা নিশ্চুপ। বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে চাইছে না কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ইন্টারপোল কেন বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তির সরকারের আবেদন মেনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড জারি করছে না? এই প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশ সরকারের কাছে অধরা। এমনকি ইন্টারপোল এর ওয়েবসাইট খুললেও দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের শতাধিক দাগি আসামীর নামে বিজ্ঞপ্তি আছে। কিন্তু সেখানে নেই শেখ হাসিনার নাম। অর্থাৎ গত বছর নভেম্বরের পর থেকে দীর্ঘ এই সময় ইন্টারপোল সাবেক প্রধানমন্ত্রী সহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনরকম বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি।
আর ইন্টারপোলের কোন পদক্ষেপ না করার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে তাদের কাছে যে সমস্ত নথি ও তথ্য প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে সেগুলি কোনটাই সরাসরি অপরাধ নয়, সমস্তটাই এদের মদতে হয়েছে অর্থাৎ এক কথায় এটি রাজনৈতিক মামলা। আর এই ধরনের রাজনৈতিক মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চায়না ইন্টারপোল। কারণ এর আগেও বিএনপি’র তারেক রহমান তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এমনকি সবাইকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও ওবায়দুল কাদের তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের কারোর বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের মামলা ছিল না অর্থাৎ তাদের মধ্যে খুন হয়েছিল ফলে সে মামলা প্রত্যাহার করে নিতেও দেখা গিয়েছে ইন্টারপোলকে। সুতরাং ইন্টারপোলের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টি বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তির সরকারের অজানা নয়। সবকিছু জানার পরেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে একটি মিথ্যে দৃশ্যপটের বোঝানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য ইন্টারপোলের কাছে ক্রমাগত আবেদন জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ইন্টারপোল ছাড়াও সরাসরি ভারত সরকারকে একধিক চিঠি দিয়েছিল শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ করার জন্য। কিন্তু ভারতের তরফে এর কোনও জবাবই দেওয়া হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে, সেই চুক্তি মোতাবেক হাসিনাকে ফেরত চেয়েছিল ঢাকা। কিন্তু ভারত তাতে সম্মতি পোষণ করেনি। কারণ, ওই বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির কয়েকটি ধারা অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশের দাবি মানতে বাধ্য নয়। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও তার দলকে নিষ্ক্রিয় করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে এখন সে মামলা শুনানি শুরু হতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বেজায় চাপে মহম্মদ ইউনুস।












Discussion about this post