অসুস্থ বেগম। তাঁকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিলেত থেকে একদল অভি়জ্ঞ চিকিৎসক বাংলাদেশ পৌঁছে গিয়েছেন। জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তথা দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বুধবার এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেন, ‘দলনেত্রীর চিকিৎসার জন্য যে আন্তর্জাতিক মানের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, বিলেতের চিকিৎসকদের দল সেই মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে। মেডিক্যাল বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ডা. সাহাবুদ্দিন তালুকদার।’ ভারত, চিন, আমেরিকা, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান থেকে চিকিৎসকেরা এসেছেন বলে তিনি উল্লেখ করে।
কিছুদিন আগে জিয়া সঙ্কটজনক অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই সময় বাতাসে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে বিএনপি নেত্রীকে বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হতে পারে। সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ডা. হোসেন। বলেন,‘দলনেত্রীর বয়স এখন ৮০। এই অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায় না।’ প্রশ্ন এখন তারেককে নিয়ে। মায়ের অবস্থা আগের থেকে ভালো হলেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। এই অবস্থায় তারেক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফেরাটা তাঁর একার ওপর নির্ভর করে না।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তারেক রহমান গত মঙ্গলবার লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তরফে এই বিষয়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতার কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তারা এটা জানিয়ে দিয়েছেন, জিয়া-পুত্র যে কোনও সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছে যেতে পারেন। প্রশ্ন হচ্ছে, লন্ডন থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে তারেকের রওনার খবর নিয়ে কেন এত গোপনীয়তা? তিনি কি সত্যিই রওনা দিয়েছেন? যদি দিয়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশে এমন কেউ আছে, যিনি তাঁর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়ো ঝুঁকি? তারেক কি কোন প্রান্ত থেকে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ একটি দেশের তরফ থেকে গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন জিয়া-পুত্র।
ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে তারেকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। দাবি করা হচ্ছে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তাঁর মেয়ে জাইমা। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হিথরো বিমানবন্দরে রয়েছেন তারেক। বাংলাদেশের বিমান ধরবেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সেই ভিডিও খতিয়ে দেখেছে। বলা হচ্ছে ভিডিওটি নকল। সেটা বাংলাদেশ থেকে পোস্ট করা হয়েছে। বাস্তব তথ্য হল তারেক রহমান এই মুহূর্তে কোনও অবস্থায় বাংলাদেশ ফিরতে চান না। এদিকে, জিয়ার নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছে তদারকি সরকার। নিয়োগ করা হয়েছে স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) বলা হচ্ছে, এভারকেয়ার হাসপাতালে এসএসএফ নিয়োগ করা হয়েছে তারিকের কথা ভেবে।
তারিখ ফিরছেন, না কি ফিরছেন না, তা নিয়ে বাংলাদেশে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে মাকে দেখতে দেশে ফেরার অন্তরায় তাঁর পাসপোর্ট। সে ক্ষেত্রে তদারকি সরকার তাঁকে ট্র্যাভেল ভিসা দিতে রাজি আছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে গত মঙ্গলবার এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখনও তারেকের পরিবার বা তাঁর দলের তরফ থেকে এই নিয়ে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি এও বলেন, জিয়াপুত্র এখন তদারকি সরকারের কাছে ট্র্যাভেল পাসের জন্য আর্জি জানাননি। তবে এটা বিষয় স্পষ্ট যে তারেক মাকে দেখতে দেশে আসতে চাইলে তদারকি সরকার ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু তারেকের ভয় কোথায় ? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ তারেকের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post