শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বহুভাবে আলোচিত, সমালোচিত হয়েছে মেটিকুলাস ডিজাইন। এখন সেই ফর্মুলাটি প্রমাণিত হল। স্বীকার করে নিলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মেটিকুলাস ডিজাইন নিয়ে মহম্মদ ইউনূস ক্লিটন ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছিলেন, যে আন্দোলনটা হয়েছিল, সেই আন্দোলনটির পিছনে একটি মেটিকুলাস ডিজাইন ছিল। এমনকি মাহফুজ আলমকে দেখিয়ে মাস্টার মাইন্ডের কথা বলেন। এদিকে মেটিকুলাস ডিজাইনের তত্ত্বটি ফেসবুকে পোস্ট করে স্বীকার করে নিলেন মাহফুজ আলম। তবে কি এবার খেলা ঘুরে গেল বাংলাদেশে? হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে বিনা দোষে। এটাই স্বীকার করে নিলেন তিনি? অনেকে আবার বলছেন, হাসিনার গুণগানে ইউনূসের মুখোশ খুললেন মাহফুজ আলম।
বিগত কয়েক মাসে মেটিকুলাস ডিজাইন নিয়ে বহু কথা হয়েছে। এবার সামনে এল তার সত্যতা। ‘মেটিকুলাস ডিজাইনে সমস্যা কোথায়?’ এমন কথায় লিখলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
তিনি ফেসবুকে লিখছেন, পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে মেটিকুলাস ডিজাইন করে আগরতলা ষড়যন্ত্র, ‘৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান আর ‘৭১ এর মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন ও বাঙ্গালি-বিহারি দাঙ্গা সঠিক হইতে পারলে ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান মেটিকুলাস ডিজাইন হইলে সমস্যা কোথায়?
দুনিয়ার কোন অভ্যুত্থান বা বিপ্লব পরিকল্পনা না করে হয়েছে? জনগণের চৈতন্যকে ঐক্যবদ্ধ ও লক্ষ্যাভিমুখী রাখতে মেটিকুলাস ডিজাইনের বিকল্প নেই। যখন জনগণ নেতৃত্ব ও বক্তব্য পেয়ে যাবে এবং বিপ্লবের অবজেক্টিভ কন্ডিশন প্রস্তুত, তখন আর প্ল্যানের দরকার পড়েনা। কিন্তু, তার আগে রাজনৈতিকভাবে জনগণকে প্রস্তুত এবং বিপ্লবী করে তোলা মেটিকুলাস ডিজাইন হলে সমস্যা কোথায়?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজাইন করে গণ অভ্যুত্থান ঘটানোতে সমস্যা নেই। কিন্তু মহম্মদ ইউনূস যে তাকেই মাস্টার মাইন্ড বলছে, সেখানে সত্যিই মাস্টার মাইন্ড কে? এদিকে বিএনপি দাবি করে তারেক রহমান মাস্টার মাইন্ড। জামাত বলে, তাদের কৃতিত্ব বেশি।
তিনি আরও লিখছেন,
সিরাজুল আলম খান, তাজউদ্দিন, সিরাজ শিকদার আর ভাসানী, এমনকি খোদ শেখ মুজিব যদি পাকিস্তান কে পরাজিত করতে মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হয়ে পাপবোধ না করেন এবং আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত হতে পারি, তাহলে ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে মেটিকুলাস ডিজাইন করে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করলে কেন এ প্রজন্ম গর্বিত বোধ করবে না?
এছাড়াও তিনি লেখেন, ৩ তারিখের ১ দফা ঘোষণার আগে জাতিসংঘের বক্তব্য ছাড়া বিদেশি শক্তি বা সামরিক বাহিনী কারোরই বিন্দুমাত্র অংশগ্রহণ ছিলনা এ গণ-অভ্যুত্থানে। ভারতের সাথে ষড়যন্ত্র করে ( যা ন্যায্য বলেই আমরা মনে করি) আগরতলা বৈঠক থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য শেখ মুজিব ও অন্যনান্য জাতীয় নেতৃত্বের প্রতি যদি আমাদের শ্রদ্ধা থাকে, তাহলে কোন বিদেশি শক্তি বা তৃতীয় শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র কিংবা সলা-পরামর্শ ছাড়াই জনগণের অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ফেলার জন্য অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ এবং অংশীজনকে কেন গালি শুনতে হবে? কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আপনারা কি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন? যখন মুজিবর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল, তাতে কি তারা বিন্দন্ত্র শ্রদ্ধা রেখে সেটা রোখার চেষ্টা করেছে।
এখানেই থেমে নেই। মাহফুজ আলম যোগ করে বলেন,
পুনশ্চ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুটি অংশ। ৫ই জুন থেকে ১৮ ই জুলাই। এ অংশে অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং নেতৃত্ব তৈরি করেছিল। আর ১৯শে জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত সকল স্তরের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে এবং আত্মদানে অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। এখানেই তিনি বলেন,
প্রথম অংশ অবশ্যই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড। পরের অংশের কৃতিত্ব বিপ্লবী ছাত্র- জনতার। কিন্তু, অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না থাকলে এ বিপ্লবী জনতা পরের অংশে লক্ষ্যে পৌছাতে পারত না। শুক্রবার দিবাগত রাত, ২রা আগস্টে এ অভ্যুত্থান বেহাত হয়ে সামরিক অভ্যুত্থানের দিকে মোড় নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তা ঠেকাতে পেরেছিল অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা ছাত্রদের এই আন্দোলনকে প্রথম দেখে গুরুত্ব দেননি, সেই কারণেই এই আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে। এমনকি মাহফুজ আলম ঠিকই বলেছেন, যে জুলাইয়ের ২ ৩ তারিখের আগে পর্যন্ত সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের সমর্থনে চলে যায়। সেনাবাহিনীর ছাত্রদের পক্ষে কাজটি মেটিকুলস ডিজাইনের অংশ কিনা, সেটাও দেখা উচিত বলে বলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্তত পরিষ্কারভাবে মাহফুজ আলমদের জানিয়ে দেওয়া উচিত, আসলে মাস্টারমাইন্ড কে। এবং কিভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কারণ এটা জানা গেলে, তারাই প্রশংসিত হবে। এত বছরে সরকারকে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা যে ছাত্র নেতাদের রয়েছে, সেটাই পরিষ্কার হবে। অন্তত কেউ বলবে না, বিদেশী শক্তির দ্বারা এই অভ্যুত্থান হয়েছে। তবে কি এবার খেলা ঘুরতে চলেছে বাংলাদেশে? উঠে আসছে প্রশ্ন।












Discussion about this post