আওয়ামীলীগের মত বিএনপিকেও যারা দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়ছিল, তারা এখন নিজেরাই নিশ্চিহ্ন হওয়ার ভয়ে ভয়ে আছে। হয়তো একেই বলে কর্মফল। জামাত এবং এনসিপি বুঝে গেছে ভোটের রেজাল্টের পরেই রাতের থেকে তাদের উপর যে নির্মম পরিস্থিতি নেমে এসেছিল, সেটি কেবল শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটির জন্য থেমে ছিল, কিন্তু তাদের যে করুণ পরিস্থিতি শুধু সময়ের অপেক্ষা তা তারা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে। বিএনপি কখনই সংবিধান এবং মুক্তি যুদ্ধের বিরুদ্ধে নয়, তাদের অনেক খামতি থাকতে পারে, কিন্তু তাদের প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবনের বাজি রেখে সামনে থেকে লড়াই করেছেন, এবং সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন,সেই মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি মানেই শুধু শেখ মুজিবরের অপমান নয়, সেটি জিয়াউর রহমানেরও অপমান। হাসনাতরা যে সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চেয়েছিল বিএনপি সেটি মেনে নেয়নি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৩ আগস্ট আমরা শহীদ মিনার থেকেই এক দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই এক দফার মধ্যে ছিল ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থা বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে বিলোপের যে প্রশ্ন, সেটির কিন্তু এখনো সমাধান হয়নি। যারা এক দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল, যারা গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, তারা কখনো ৭২-এর সংবিধানের পক্ষে থাকতে পারে না। কারণ ৭২-এর সংবিধানের মধ্য দিয়েই আমাদের এ ফ্যাসিবাদ কাঠামো সবসময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেকের ভয় ছিল যে বিএনপি কি গণভোটের ফাঁদে পড়ে আবার আঠারো মাস কোন কাজ করতে না পেরে, ইউনূসের হাতের পুতুল হয়ে যায় কিনা। কিন্তু বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ না করে, বুঝিয়ে দিয়েছে তারা রাজনীতির মাঠে ছাত্রনেতাদের মত বাচ্চা ছেলে নয়। সেই সঙ্গে যে উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ছিল, যাদের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলোন করেছে, সেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করে, একই সঙ্গে ছাত্রদের মন ভেঙে দিয়েছে। আবার অন্য দিকে ভারত এবং আমেরিকারকে একটি বন্ধু সুলভ বার্তাও দিয়েছে। আজ এনসিপি এবং জামাত ক্ষমতায় যেতে না পেরে যে মানবতার দোহাই দিচ্ছে বিএনপিকে, তারা শিক্ষিত ছাত্র সমাজ হয়ে কি সেই মানবতার লেশ মাত্র প্রকাশ করেনি। তারা হাজার হাজার পুলিশ কে থানার ভিতরেই নির্মমভাবে জ্বালিয়ে হত্যা করেছে। মব করে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের জীবন তছনছ করে দিয়েছে।তারা আওয়ামীলীগের সঙ্গে যা যা করেছে, আজ সেগুলিই তাদের দিকে ফিরে আসছে, তাই ভয় পেয়েছে নাহিদরা, মাহফুজ আসিফ মাহমুদরা ভোটে অংশ নেয়নি, তাই তাদের জিতা বা দেশে থাকার কোন প্রশ্ন নেই, তারা এখন আর সামনেও আসছে না, হয়তো বিদেশে চলেও গেছে, কিন্তু সারজিস যদি দেশে থাকে তবে তার অবস্থা খারাপ হবেই, সেই সঙ্গে হাসনাত আর নাদিদের সঙ্গে কি হবে তা কেউ বলতে পারে না। এই যে সংস্কার এবং জুলাই সনদের কবর দেওয়া হয়ে গেল, এর ফলে হতাশ ছাত্রনেতা থেকে জামাতের আমীর শফিকুর আলম। তারা হতাশ এই জন্য যে জুলাই সনদ এবং সংস্কার না হলে তাদের বাঁচার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা এই সংস্কারে বিএনপির অংশ গ্রহণ না করাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে। কিন্তু বিএনপি তো বলছে তারা যা করছে তা সংবিধান মেনেই। ফলে ছাত্রনেতা দের ভয় হচ্ছে, তারা ক্ষমতার বলে বলিয়ান হয়ে যে মবের রাজত্ব করে মানুষের উপর অত্যাচার করেছে এবার সেটি তাদের উপরই নেমে আসে কিনা।












Discussion about this post