এককথায় মাদার অব অল ডিল।
ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি যুগান্তকারী চুক্তি হয়েছে। যে চুক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এই চুক্তিকে সব চুক্তির জননী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির ফলে, ভারতে আমদানি হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য হবে অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এই চুক্তির বড়ো প্রভাব পড়তে পারে অটোমোবাইল সেক্টরে। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে আমদানি হওয়া বিলাসবহুল গা়ডির দামে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার “ভার্চুয়াল ইন্ডিয়া এনার্জি উইক”-এর উদ্বোধনে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, “এই চুক্তি ভারতের উৎপাদন শিল্পে জোয়ার আনবে। পাশাপাশি পরিষেবা ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে। ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই বোঝাপড়া ভারতের অর্থনীতি, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে নতুন শক্তি জোগান দেবে। ”
১০০ শতাংশ শুল্ক কমে হবে ১০ শতাংশ
বর্তমানে ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ক্ষেত্রে ভারতে ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। প্রায় ৪০ হাজার ডলারের কম দামের গাড়িতে শুল্ক হার ৭০ %। তার বেশি দামের গাড়ির ক্ষেত্রে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১১০ %। ভারত-ইইউ চুক্তির ফলে সেটা এক লপ্তে ১০ শতাংশ নামিয়ে আনা হতে পারে। যদিও এই ছাড় এক ধাপে হবে না কি ধাপে ধাপে হবে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “ গোটা বিশ্বজু়ডে মানুষ একে মাদার অব অল ডিলস বলে আলোচনা করছেন। এই চুক্তি বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব করেন। এর ফলে, ১৪০ কোটি ভারতবাসী এবং ইউরোপের লক্ষ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। ”
এই চুক্তির ফলে সব থেকে বিপদে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ। সব থেকে বেশি প্রভাবিত হতে চলেছে বস্ত্রশিল্প। এই বস্ত্রশিল্পের বাজারে একাধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। ইউরোপের মার্কেট বছরের পর বছর নিজেদের দখলে রেখেছিল বাংলাদেশিরা। এর একটা কারণ রয়েছে। ভারত একসময় এই বাজার হারিয়ে ফেলেছিল। ভারতের বস্ত্রশিল্পের বাজার ইউরোপের বাজারে প্রায় ছয়গুন বাড়তে চলেছে। এই চুক্তির ফলে ইউরোপের বাজারে বস্ত্রশিল্পের চাহিদা অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টমহল। ভারতের টার্গেট ৪০ বিলিয়ন ডলার। এই মুহূর্তে ইউরোপ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বস্ত্র আমদানি করে। ইউরোপে বস্ত্রশিল্পের সংকট রয়েছে। সেই সংকট মেটাতেই তাদের এই পরিমাণ বস্ত্র আমদানি করতে হয়। ইউরোপ অন্যান্য দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও এই ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর ছিল। কিন্তু ভারতের সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় তাদের আর অন্য কোনও দেশের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।
এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয় ২০০৭ সালে। কিন্তু অটোমোবাইল শিল্পের বাজার নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় ২০১৩ সালে তা থমকে যায়। এই চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ভারত ইউরোপীয় গাড়ি এবং মদের জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এই চুক্তিটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।একদিকেআমেরিকারবাণিজ্যনীতিতেবড়সড়পরিবর্তনএবংঅন্যদিকেচিনেরএকাধিপত্য, এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও ইইউ কাছাকাছি এসেছে।
সৌরশক্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে চিনের একচেটিয়া দাপট ও সস্তার পণ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই জোট সহায়ক হবে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post