বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংকটে। বিভিন্ন দেশের কাছে নেওয়া ঋণের বকেয়া রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা সামাল দেওয়া তো দূর, উল্টে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৬ টি ট্রেন ভাড়া করেছে। এই ১৬ টি ট্রেন ভাড়া করতে সরকারের খরচ হবে ৩০ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা।
জানা যাচ্ছে, ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে আনতে এই ৮ জোড়া ট্রেন ভাড়া করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই ট্রেনগুলি করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্র জনতাকে মঙ্গলবার নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি কর্মসূচি শেষ হয়ে যাওয়ার পর, তাদেরকে নিজে নিজে গন্তব্যস্থলে ট্রেনে করে পাঠানোর কথা বলা হয়।
রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জুলাই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য এই ট্রেন ভাড়া করা হয়েছে। যাতে জেলার প্রতিটি মানুষ এই অনুষ্ঠানে থাকতে পারে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদফতর তাদের চিঠিতে কোন কোন জায়গায় ট্রেন দিতে হবে, কখন ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাতে হবে এবং কখন গন্তব্যে ফিরে যাবে, তা উল্লেখ করেছে। সে অনুযায়ী সূচিপত্র তৈরি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এদিকে যে পরিমাণ টাকা খরচ করা হচ্ছে, সেই টাকা মেটানো হবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রক থেকে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ ট্রেনগুলো পরিচালনার জন্য তারা একটি সূচি তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রংপুর থেকে আসা ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে কর্মসূচির আগের দিন। অর্থাৎ ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায়। এর বাইরে দূরের গন্তব্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী থেকে ৫ আগস্ট ভোরে ট্রেনগুলো ছেড়ে এসেছে। গাজীপুর, নরসিংদী ও ফরিদপুর থেকে ট্রেনগুলো দুপুরের আগে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, ১৬টি কোচের সমন্বয়ে তৈরি করা একটি বিশেষ ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী। এতে আসনসংখ্যা ৮৯২। যার ভাড়া ৭ লাখ টাকার কিছু বেশি। গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে আরেকটি বিশেষ ট্রেন ৮টি কোচ নিয়ে। এতে আসন সংখ্যা ৭৩৬টি। এই ট্রেনের জন্য ভাড়া সাড়ে ৭২ হাজার টাকার মতো।
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পথে ১০টি কোচ নিয়ে বিশেষ ট্রেন। যার আসন ৫১০টি। যার সাড়ে ৫৬ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। নরসিংদী থেকে ১২ কোচের একটি ট্রেন। এর আসনসংখ্যা ৬৫২। ভাড়া প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। সিলেট থেকে ১১টি কোচ নিয়ে বিশেষ ট্রেন। এর কোচসংখ্যা ১১ এবং ট্রেনটিতে ৫৪৮টি আসন থাকবে। এই ট্রেনের ভাড়া ৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ট্রেন ৭টি কোচ নিয়ে। এর আসন ৫৪৮টি। এর ভাড়া ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। ১৪টি কোচ নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেন রংপুর থেকে। এতে যাত্রী আসন সংখ্যা ৬৩৮টি। এই ট্রেনের জন্য ভাড়া প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা। ফরিদপুরের ভাঙা থেকে ৭টি কোচ নিয়ে একটি ট্রেন। এতে আসনসংখ্যা ৬৭৬। ভাড়া প্রায় ২ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা।
এই জুলাই ঘোষণা পত্র মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং জুলাই আন্দোলন সমর্থিত। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনা যেভাবে বাংলাদেশের মা-বোনেদের ইজ্জত নষ্ট করেছে, হত্যালীলা চালিয়েছে, সেটা নাকি অতটা বড় বিষয় নয়। কিন্তু শেখ হাসিনার সময়ে জুলাইয়ে যেটা হয়েছে, সেটা নাকি ৭১ এর থেকেও ভয়ংকর। এখন প্রশ্ন এটাই, যে উপদেষ্টারা অন্ধ ভক্তের মতো পাকিস্তানকে লালন করছে, তাতে আদেও কি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ফিরবে? এই প্রশ্নই বেশি করে উঠছে।












Discussion about this post