মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে আরও একটি খবর সামনে এসেছে। আগেরটা যেমন সুখবর, এর পরের খবরটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্তত বাংলাদেশ সরকারের কাছে। বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের নাকি সামরিক বিমানে করে পাঠানো হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, সামরিক বিমানে করে পাঠানো মানে, হাত পা বেঁধে পাঠানো হয়। অর্থাৎ ভারত অনুপ্রবেশ রুখতে
সচেষ্ট। আর সেই পথেই হাঁটছে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ।
অবৈধভাবে থাকার অভিযোগে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সকালে একটি চার্টার্ড বিমান তাদের নিয়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর থেকেই অভিবাসন নীতি নিয়ে ধরপাকড় শুরু করে দিয়েছে। দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের নিজ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও কয়েক দফাতে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষদের বেছে বেছে ফেরত পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে। আগে বিভিন্ন সময় আরও ১১৮ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠায় দেশটি। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগের এক বার্তায় বলা হয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানে করে ৬১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৯ জন বাংলাদেশি।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এবার কেন মহম্মদ ইউনূস ট্রাম্প কে চিঠি দিচ্ছেন না? ঠিক যেমনটা দিয়েছিলেন ভারত সরকারকে। উল্লেখ্য, ভারতও অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর হয়েছে। একাধিক রাজ্যে চলছে অনুপ্রবেশমারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ। ইতিমধ্যেই বহু বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। আর এটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অনেক সময় তারা নিজের দেশের নাগরিককে গ্রহণ করতে চায়নি। উল্টে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। যদিও নয়া দিল্লি কোনও চিঠির উত্তর দেয়নি। স্পষ্ট করে জানিয়ে হয়েছে, অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত সচেষ্ট রয়েছে আর থাকবে। অন্যদিকে বিএসএফকে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অনুপ্রবেশকারী ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে, স্বাভাবিকভাবেই বিএসএফ আটকায়। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা বিএসএফের ওপর আক্রমণ চালায়। তখনই পাল্টা গুলি চালায় বিএসএফ। এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। আর এখানেই বিএসএফকে কাঠগড়ায় তুলছে তারা। প্রশ্ন ওঠে, বিজিবি কেন আটকায় না অনুপ্রবেশকারীদের? এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ, বিজিবি সাহায্য করছে তাদের।
তবে সেই একই কাজ যুক্তরাষ্ট্র করতেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা। অনেকে বলছেন, ভারতের দেখানো পথেই হাঁটল ট্রাম্পের দেশ।












Discussion about this post