ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন মসনদে বসার পর থেকে একের পর এক পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা মার্কিন ইতিহাসে আগে কখনও ঘটেনি। এমনকি তার পদক্ষেপে চাপে পড়েছে বহু দেশ। একইভাবে ট্রাম্পের শুল্কনীতিও চাপ তৈরি করছে একাধিক দেশকে। এবার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের উপর ১লা আগস্ট থেকে শুল্ক চাপাতে চলেছে আমেরিকা। এদিকে গত তিন মাস ধরে আমেরিকার সঙ্গে নানা চুক্তি করতে চেয়ে সম্পর্ক সমকরণ বদলাতে পারেনি মহম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। এমনকি এই সিদ্ধান্তের পর আমেরিকাতে বিপুল পরিমাণে ব্যবসা করা বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পের দরজা পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেল। আমেরিকার বড় সিদ্ধান্তে মাথায় হাত মহম্মদ ইউনূসের।
যে তালিকা সামনে এসেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, বসনিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মায়ানমার, লাউস, মালেশিয়া,..এই সমস্ত দেশের উপর শুল্ক চাপিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারমধ্যে জাপান এবং বাংলাদেশের নাম চমকে দেওয়ার মত। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাপানের একাধিক এয়ারবেস আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভূ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমেরিকা সেই দেশের উপরই শুল্ক চাপিয়ে দিল। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান হল বস্ত্র শিল্প। মোট জিডিপির দশ শতাংশ বস্ত্র শিল্প দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এদিকে বাংলাদেশে প্রায় ১৫০ টিরও বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবং বস্ত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত সাত হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। ফলে বস্ত্র শিল্পের অবস্থা খুব খারাপ জায়গায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের। বস্ত্রশিল্পীদের ওপর আন্দোলনের বিপক্ষে বাংলাদেশের পুলিশ তাদের উপর গুলি চালাতে পর্যন্ত দেখা গিয়েছে। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের উপর এই পরিমাণ শুল্ক। কিছুদিন আগেই কৃষি বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মোহাম্মাদ ইউনূস। পরিবর্তে শুল্ক প্রত্যাহারের কথা উঠে এসেছিল। কিন্তু বাস্তবিকভাবে দেখা গেল ডোনাল্ড ট্রাম বাংলাদেশে একটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের কার্যালয় খুলিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলে বাংলাদেশের সরকারী নিয়ন্ত্রক হয়ে গেল একটি তৃতীয় পক্ষ।
এদিকে আমেরিকা বাংলাদেশের করিডোর দেওয়ার বিষয়টি প্রায় স্থির করে নিয়েছে। ফলে একাধিক চুক্তি করেও মোহাম্মাদ ইউনুস ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পকে বাঁচাতে পারতো ভারত। ভারতের একটি বিকল্প মাধ্যম ছিল বস্ত্রশিল্পের জন্য যা দিনের পর দিন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। যখন মহম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা বাড়তে শুরু করে তখন ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করে দেয়। আর সেই পদক্ষেপে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি স্থলবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে ভারত । ফলে এখন জলপথই হল একমাত্র মাধ্যম। যে কারণে আরো ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে প্রায় পথে বসিয়ে দিয়েছে। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post