ফের বাংলদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র। এবার বিপদে পড়তে পারে বাংলাদেশ। ভারতের পর আমেরিকার চোখে
বাংলাদেশ জঙ্গিরাষ্ট্র। অন্তত আমেরিকার উদ্বেগ দেখে তাই মনে হচ্ছে। শোনা যায়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যে সমস্ত দেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে তারা নির্মূল করেছে জঙ্গিবাদ। এমনকি জঙ্গিবাদ দমনে কখনো সরকার আক্রান্ত হয়, আবার কখনও দেশ আক্রান্ত হয়। এরকম একটা বিষয় উঠে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র?
জঙ্গিবাদ নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বললেন মার্কিন দূত।
জানা যাচ্ছে, ১০ জুলাই সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার চালস দ্যা এফেয়ার্স এমনই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশের জঙ্গি কার্যকলাপ নেই। আসলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বহু জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত সংগঠনগুলির শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ ছিল, তাদের বাড়তে দিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। এমনকি তারা প্রকাশ্যে মিছিল, মিটিং করছেন। কিন্তু একশনই নিচ্ছেন না ইউনূসের সরকার। এমনকি যখন ধানমন্ডির বাড়ি ভাঙ্গা হল তখন হিযবুত তাহেরি থেকে আইএসআইযের পতাকা দেখা গিয়েছে। এমনকি সেই সময় পুলিশ কোনও একশন নেয়নি। ভারতও একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে জঙ্গিবাদ মুছে ফেলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার সতর্ক হয়নি।
প্রসঙ্গত, আইএস-এর সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে মালয়েশিয়া পুলিশের তরফে। যার মধ্যে ৩৫ জনই বাংলাদেশি। ইতিমধ্যেই ৩ জনকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার তরফে ইন্টারপোলের সাহায্যে এই বাংলাদেশী জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্পূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছর ৫ই আগস্টে পালাবদলের পর, বাংলাদেশের জেল থেকে পলাতক ৭৯ জন জঙ্গি। আর তারা এখন ধরা ছোঁয়ারও বাইরে। এদের কোনও তথ্য আপাতত নেই সরকারের কাছে। অকেজো করে রাখা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অফ ট্রান্সলেশনাল ক্রাইম ইউনিট বা সিটিটিসি কে। কিন্তু মালয়েশিয়া তরফে দাবি জানানো হচ্ছে ধরা পড়া বাংলাদেশেরা, আইএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সিরিয়াতে জঙ্গি তৎপরতার জন্য বিপুল পরিমাণে অর্থ পাঠাতো। এমনকি এই জঙ্গি গুলোর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যোগসাজশ রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখছে সেখানকার পুলিশ। তার মধ্যে আমেরিকা বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গি দমনে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতেই পারে, যেটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার, বাংলাদেশের সরকার বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয় নাকি সেটিকে আমলে নিয়ে পদক্ষেপ করে! অবশ্য পদক্ষেপ করলেই মঙ্গলজনক হবে সরকার এবং দেশের জন্য। মত ওয়াকিবহাল মহলের।












Discussion about this post