ঢাকায় পা রাখার পরই কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন বাংলাদেশের নতুন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সরাসরি জানিয়েছেন-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা,নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং সংবিধান মেনে চলার ওপর জোর দিতে বাংলাদেশকে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনোভাবেই যেন সামরিক বা প্রশাসনিক শক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব না ফেলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য কার্যত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্দেশেই একটি চরম সতর্কবার্তা।বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন ভবনে গিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।দূতাবাসে ব্রেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এটাই ছিল তাঁর প্রথম বৈঠক। এবং এই বৈঠক ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। অত্যন্ত গোপনে চলেছে এই বৈঠক বলে জানা যাচ্ছে সূত্র মারফত। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেললেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ব্রেন্ট ঢাকার দূতাবাসে সদ্য দায়িত্ব পেয়েছেন। আর তারপরেই তিনি একের পর এক অ্যাকশন দেখাচ্ছেন। উল্লেখ্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোট-পরবর্তী বাংলাদেশে আমেরিকা কী ভাবে কাজ করবে, তাদের নীতি কী হবে, তা নিয়েই বুধবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, নির্বাচনে কোনও দলের পক্ষ না-নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্পের এই নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট।বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন ভবনে গিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের আরও কয়েক জন প্রতিনিধি।নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দীনের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের কথা হয়েছে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ব্রেন্ট। বলেন, ”নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা আমাদের স্ট্যান্ড জানিয়ে দিয়েছি স্পষ্টভাবে। আর এইখানেই যত জল্পনা সৃষ্টি হচ্ছে জানা যাচ্ছে এই বৈঠকের বিষয়ে সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুসকে কোনরকম কোন কিছুই জানানো হয়নি অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে মার্কিন এই বৈঠকে জায়গা পায়নি মোহাম্মদ ইউনুস স্বাভাবিকভাবে ট্রাম্পের নীতি বাংলাদেশে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসকে আড়াল করেই তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। প্রসঙ্গত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন আয়োজন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, প্রস্তুতি কেমন, তা বিস্তারিত ভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনও নির্দিষ্ট দলের পক্ষ নিতে চায় না আমেরিকা। সে ক্ষেত্রে ভোটের পর তাদের ভূমিকা কী হবে? মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, পরিস্থিতির দিকে তাঁরা নজর রাখছেন। জনগণ দ্বারা নির্বাচিত যে কোনও সরকারের সঙ্গেই আমেরিকা কাজ করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের ভোট নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত এবং তার ফলাফল দেখতে বিশেষ আগ্রহী, জানিয়েছেন ট্রাম্পের নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত।
গত সপ্তাহেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সদ্যনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানেও ভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইউনূস জানিয়েছিলেন, তাঁর আয়োজিত এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটাই হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সার্বিক যোগদানমূলক নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন ইউনূস। সে মুখে যাই বলুক ইউনূস, ওনার আশ্বাস বাণীতে যে চিড়ে ভিজবে না মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে তা স্পষ্ট।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post