সুকুমার রায়ের হযবরল-য়ের সেই কাকেশ্বর কুচকুচের কথা মনে আছে। যে কাকটা বলেছিল – ‘তোমাদের দেশে সময়ের দাম নেই বুঝি? … এখানে কদিন থাকতে, তাহলে বুঝতে। আমাদের বাজারে সময় এখন ভয়ানক মাগ্যি। এতটুকু বাজে খরচ করার সময় নেই। এই তো কদিন খেটেখুটে চুরি-চামারি করে খানিকটা সময় জমিয়েছিলাম। তাও তোমার সঙ্গে তর্ক করতে করতে অর্ধেক হয়ে গেল।’
পৃথিবার সব দেশে, এমনকী অ্যামজনের গভীর জঙ্গল, শূয়োরের খোঁয়াড়, ঘো়ড়ার আস্তাবল, স্বর্গ-মর্ত্য– পাতাল– এককথায় সর্বত্র সময়ের দাম থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সময়ের দাম নেই। নেই বলেই তো হাসিনাকে শূলে চড়াবার পরিকল্পনা করেছে। এটা জেনেও যে তাঁকে ভারত কোনও অবস্থায় হায়নার মুখে ছেড়ে দেবে না। যখন বুঝতে পারল তখন আবার নতুন ছক তৈরি করতে শুরু করে দিল। নতুন ছক হল হাসিনাকে জড়িয়ে তাঁর বোন রেহানা, তাঁর মেয়ে তথা ব্রিটেনের প্রাক্তন সাংসদ টিউলিপ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতি মামলা রুজু করে এবার তিনজনকে একসঙ্গে ফাঁসি কাঠে ঝোলানোর প্ল্যান করেছে। টিউলিপ সিদ্দিককে হাতে পাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। মাঝে মধ্যে তদারকি সরকারের কার্যকলাপ দেখে একটাই প্রশ্ন উঁকি মারে – এই যমুনাভবনের বাসিন্দার কি কোনও আত্মসম্মান বোধ নেই। একসময় বিশ্বের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিকমহল এই ভদ্রলোককে শ্রদ্ধার চোখে দেখত। আর এখন তিনি নিজেই নিজের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছেন। আগামীদিনেও যে দায়িত্বের সঙ্গে তিনি এবং তাঁর কচি সংসদের সদস্যরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
টিউলিপ জানিয়েছে, বাংলাদেশের তদারকি সরকারের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ হাস্যকর। এর সঙ্গে যোগ করতে হয়, বিষয়টা শুধু হাস্যকর নয়। যে বিষয়টি মাথায় রেখেই টিউলিপ, তাঁর মা রেহানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা খালা হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও হাস্যকর। বলা হচ্ছে জমি বিলি করতে টিউলিপ হাসিনার ওপর চাপ তৈরি করেছিলেন। আর হাসিনা ভাইঝির আবদার ফেলে দিতে পারেননি। টিউলিপ অবশ্য নিজের জন্য হাসিনাকে দিয়ে জমি বরাদ্দ করেননি। এ তো যমালয়ের জীবন্ত মানুষের বিখ্যাত উক্তি মনে করায় – ‘ভাবলাম আর পাপ হয়ে গেলে।’
নিজের নামে হাসিনাকে দিয়ে জমি বরাদ্দ করেননি ঠিকই। কিন্তু প্রভাব তো খাটিয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে যদিও ধরেই নেওয়া যায় যে টিউলিপ প্রভাব খাটিয়ে ছিলেন, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধে হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যে দণ্ডাদেশ দিয়েছে, সেটা তো ইউনূস সরকারের প্রভাব খাটানোর ফল। এক্ষেত্রে অবশ্য তদারকি সরকার কোনও দোষ দেখেন না। দোষ চোখে পড়ে না তাঁর কচি সংসদের সাংসদের। সব দোষ করেছেন হাসিনা এবং তাঁর সঙ্গীরা। আর তাই, তাদের শায়েস্ত করতে না পারা পর্যন্ত ইউনূস এক দণ্ড চোখ বুজে থাকতে পারছেন না।
এদিকে টিউলিপ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করার কথা ভাবছেন। রায়ের পর ব্রিটেনের একটি প্রথম সারির দৈনিকের প্রতিনিধিকে প্রাক্তন সাংসদ বলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচারপ্রক্রিয়া এবং সেই বিচারের রায় তিনি মানেন না। তাছাড়া এই বিচার ত্রুটিপূর্ণ এবং প্রহসন মূলক। এই রায়কে তিনি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাহলে তদারকি সরকার এখন কী করবে। হষবরল-য়ের সেই বুড়োর কথার সূত্র ধরে বলতে হয়, ইউনূস খুব ব্যস্ত হয়ে হুঁকোতে দু-এক টান দিয়ে জানতে চাইবেন – কই হিসেবটা হল ? কারণ তাঁর যে সব হিসেব গুলিয়ে যাচ্ছে।












Discussion about this post