পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের তুলনা টেনে একটি ছবির শিরোনাম ছিল এই রকম – ছবির নীচে কখনো লিখতে হয় না সততার প্রতীক। কার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদনের বিষয় তা নয়। বাংলাদেশের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই ছবি এবং শিরোনামটি উল্লেখ করতে হল।
সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান সম্প্রতি বলেছিলেন, সেনাবাহিনী বাদে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থায় যে সব সেনাকর্মকর্তা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁরা নিয়ম বহির্ভূত কোনও কাজ করে থাকলে সাজা পেতে হবে। অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে ওই অফিসারেরা সরকারের কথা নানা ধরনের অমানবিক কাজে লিপ্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে সেনাপ্রধান নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করার একটা চেষ্টা চালান। আর সেটা করতে গিয়ে তিনি নিজেই আড়াই প্যাঁচে জড়িয়ে গিয়েছেন।
এই অবস্থায় জাতিসঙ্ঘ থেকে তাঁর জন্য এসেছে ঢালাও সার্টিফিকেট। সেটা আবার জাতিসঙ্ঘের কোনও করণিক দেননি। দিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভলকার তুর্ক। তিনি যা বলেছেন সেটা একটু রসিয়ে বলা দরকার – ‘দারুণ কাজ করসেন, মশাই দারুণ কাজ। সত্যিই আপনার তারিফ না কইরা থাহন যায় না। আপনি যে এমন পদক্ষেপ করতে পারেন, হেইডা তো আমরা ভাবতেই পারতাসি না। তবে হ্যাঁ, এইডা কিন্তু দ্যাখবেন যেন বিচারের নামে যেন বিচার হয়। বিচার করতে গিয়া আবার অবিচার কইরা ফালায়েন না। ’
কাম সারসে। মানে এখানেই কবি কেঁদেছে। মানে সেনাপ্রধান। এদিকে আবার জাতিসঙ্ঘ থেকে পালটা চাপ এসেছে। তারা আটক সেনাকর্তাদের দ্রুত সামরিক আদালতে হাজির করতে বলেছে। তাদের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা সামদানির বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে জাতিসঙ্ঘ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গত সরকারের আমলে ঘটা গুরুতর অপরাধ সংঘটনে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত এক ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে আটকের কথা ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। তাদের বাহিনী কর্তৃক দ্রুত বেসামরিক আদালতে হাজির করাটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ফৌজদারি বিচারকাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ’ প্রায় একই বক্তব্য জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভলকার তুর্কের। তিনি বলেছেন, ‘এই প্রথম সে দেশে গুমখুনে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হল। এই পদক্ষেপ ওই সব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং তাঁদের পরিবারের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ সেই সঙ্গে তাঁর আশা, বিচার হবে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ। তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন আরও একটি বিষয়ে। ওই সব ঘটনার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে এই সব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং স্পর্শকাতর তথ্য যাতে কোনওভাবেই লোপাট না হয়ে যায়, সেটিও নিশ্চিত করা।
জাতিসঙ্ঘ বলল আর সঙ্গে সঙ্গে ‘গোপাল অতি সুবোধ বালক’-য়ের মতো বাংলাদেশ সেটি কার্যকর করে দিল – এটা যদি কেউ ভেবে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তাঁর একজন ভালো মনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জাতিসঙ্ঘ যে বার্তা দিল সেটা হল সেনাআইনে তাদের যেন বিচার না করা হয়। বিচার করা হয় ফৌজদারি আইনে। এই চাপের উৎস কিন্তু অন্যত্র। জাতিসঙ্ঘের ঢাকা অফিসের দক্ষিণ এশিয়ার এক মহিলা তৈরি করেছেন একটি নিজস্ব একটি বৃত্ত, যার কাজ জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘুরিয়ে হস্তক্ষেপ করা। অনেকের মতে, সেই হস্তক্ষেপের পরিণতিতেই এসেছে এই বিবৃতি।












Discussion about this post