বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নির্বাচন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদায় ঘটবে। এরমধ্যে এই সরকার যে যে কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে, তার ফল ভুগতে শুরু করেছে বাংলাদেশবাসী। কেন বলছি? কারণ ইউরোপ হোক বা আমেরিকা…প্রায় অনেক দেশে ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের। ফলে প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই সংকট? এই সংকটের পিছনে দায় কার? বাংলাদেশের বহু নাগরিক ভিসা পেতে সমস্যায় পড়ছেন। ঠিকঠাক কাগজপত্র জমা করার পরও ভিসা পাচ্ছেন না বাংলাদেশবাসী। অথচ এর পিছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অনিশ্চয়তা গ্রাস করছে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের। ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার দরজা। এর দায় অবশ্যই অন্তবর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে। বলছটেেন বিশেষজ্ঞরা।
এই একই ধরনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও তারা ভিসা পাচ্ছে না। বিশেষ করে, ট্রাম্প প্রশাসন যবে থেকে ক্ষমতায় এসেছে, তারপর থেকে ভিসা জটিলতা অব্যাহত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা না পাওয়ার পিছনে একটি বড় কারণ রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা না পাওয়ার পিছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভুয়ো কাগজপত্র। ব্যাংকের স্টেটমেন্ট জাল করে, কিংবা শিক্ষাগত ক্ষেত্রে কাগজপত্র জাল করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, ভিসার শর্ত ভেঙে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া। এর জেরে ব্যক্তিগত স্তরে সেই ব্যক্তি বিপদে পড়ছেন। পাশাপাশি গোটা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো ভিসা দেওয়ার সময় এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইন শৃঙ্খলা ও আইনের সু শাসনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ব্যাক গ্রাউন্ড চেক করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেক কঠোর করা হচ্ছে। শ্রম বাজারে ভিসা জটিলতার সংকট স্পষ্ট। সৌদি আরব ছাড়া মধ্য প্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিছুক্ষেত্রে আবার সীমিত করেছে। জাপান ও সিঙ্গাপুরে অল্প কিছু শ্রমিক গেলেও সেটা অত্যন্ত সীমিত। এমনকি পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। তথ্য বলছে, প্রতি বছর গড়ে ১ লক্ষ বাংলাদেশীকে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। ইউরোপ থেকে গত এক বছরে অন্তত ৪ হাজার মানুষ ফিরেছেন। ফলে ভিসা জটিলতায় আগ্রহীদের বিদেশ যেতে না পারায় একদিকে ক্ষোভে ফুঁসছে নাগরিকরা। অন্যদিকে তারা প্রশ্ন তুলছে, কার দায় এক্ষেত্রে? রাষ্ট্রের? নাকি নির্দিষ্ট করে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের? ফলে ভিসা জটিলতায় আগ্রহীদের বিদেশ যেতে না পারায় আসলে অনেকেই নানা প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট এককের নয়। ভুয়ো কাগজ এবং দুর্বল সু শাসনের জেরে এই পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট উচ্চ ঝুঁকির তালিকায়? যতক্ষণ না বাস্তবতা বদলায়, ততদিন বিদেশ যাত্রায় স্বপ্ন আটকে থাকবে। ভিসা জটিলতার সংকটে পড়বে। তবে অনেকে আশা করছেন, বাংলাদেশে ভোটের পর স্থায়ী নির্বাচিত সরকার আসার পর পরিস্থিতি বদলাবে। এদিকে ভারতের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিকালীন ছাড়া কোনওভাবেই ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। ভারত, আমেরিকা, ইউরোপ-সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটা দেশ এইভাবেই বাংলাদেশের ভিসার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করছে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post